গত ১২ অক্টোবরের দুর্ঘটনার পর থেকেই তিনি ভর্তি ছিলেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। দীর্ঘ আট দিন আইসিইউ-তে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে সোমবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অপর্ণা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 20 October 2025 18:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ধমান স্টেশনে পদপিষ্টের (Bardhaman Stampede) ঘটনায় আহত এক রেলযাত্রীর (Rail Passenger) মৃত্যু হল দুর্ঘটনার আট দিন পর। মৃতার নাম অপর্ণা মণ্ডল (৬৭)। বাড়ি হুগলি জেলার উত্তরপাড়ার হরিসভার ২ নম্বর বাকলায়। গত ১২ অক্টোবরের দুর্ঘটনার পর থেকেই তিনি ভর্তি ছিলেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। দীর্ঘ আট দিন আইসিইউ-তে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে সোমবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অপর্ণা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার দিন বর্ধমান শহরের নীলপুরে এক আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি। সেদিনই উত্তরপাড়া ফেরার জন্য বর্ধমান স্টেশনে ট্রেন ধরতে গিয়েই ঘটে বিপত্তি। স্টেশনের ফুট ওভারব্রিজে যাত্রীদের হুড়োহুড়ির মাঝে পদপিষ্ট হন তিনি।
মৃতার ভাইপো বাপন মণ্ডল জানান, “খুব ভিড় ছিল সেদিন। পা হড়কে পড়ে যান কাকিমা। সবাই ট্রেন ধরতে ছুটছিল, কেউ কাউকে দেখতে পাচ্ছিল না।”
রেল সূত্রে খবর, ওইদিন চার, ছয় ও সাত নম্বর প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। চার নম্বরে বর্ধমান–হাওড়া মেন লাইন, ছয়ে রামপুরহাট লোকাল এবং সাতে আসানসোল লোকাল। হঠাৎই যাত্রীরা তিনটি ট্রেন ধরতে একযোগে ছুটতে শুরু করেন। সেই ভিড়েই ঘটে পদপিষ্টের ঘটনা।
দুর্ঘটনার পর মোট আটজন যাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সাতজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও অপর্ণা মণ্ডলের শারীরিক অবস্থা গুরুতর ছিল বলেই তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।
পূর্ব রেলের মুখপাত্র দীপ্তিময় দত্ত বলেন, “বর্ধমান স্টেশন দুর্ঘটনায় আহত এক যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।”
উল্লেখ্য, ওই ঘটনার পর থেকেই যাত্রী সুরক্ষায় একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। বর্ধমান স্টেশনে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত রেলপুলিশ। কোন ট্রেন কোন প্ল্যাটফর্ম থেকে ছাড়বে, তার স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মে ওঠানামার জন্য নির্দিষ্ট ফুট ওভারব্রিজও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে।