দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার হরিয়ানার কারনালে (Karnal) মহাপঞ্চায়েত (Mahapanchayet) বসাতে চেয়েছিলেন কৃষকরা। তারপরে জেলা প্রশাসনের সদর দফতর ঘেরাওয়ের পরিকল্পনা ছিল। সেইমতো কৃষকরা এদিন বড় সংখ্যায় কারনালে জড়ো হন। মহাপঞ্চায়েত ঠেকাতে মোতায়েন করা হয় বড় সংখ্যক পুলিশও। শহরে উত্তেজনা ওঠে চরমে। বিকালে জানা যায়, কৃষকদের ১১ জন প্রতিনিধিকে ডেকে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরের নির্বাচন কেন্দ্র কারনালে গোলমালের আশঙ্কায় আগে থেকেই ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। সোমবার রাত ১২ টা থেকে কারনাল কুরুক্ষেত্র, কাইথাল, জিন্দ এবং পানিপথে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, কারনাল শহরে রয়েছে ৪০ কোম্পানি নিরাপত্তারক্ষী। তাদের মধ্যে আছে ১০ কোম্পানি আধা সেনা। কারনালের ডেপুটি কমিশনার নিশান্ত কুমার যাদব শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন।
২৮ অগাস্ট পুলিশের লাঠি চালনার প্রতিবাদে এদিন কারনালে মহাপঞ্চায়েত করতে চেয়েছিলেন কৃষকরা। কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে ওই দিন হরিয়ানায় সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকেরা। সেই অবরোধ তুলতে কারনালে ভয়ঙ্কর লাঠি চালায় পুলিশ। একটি ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায়, কারনাল জেলার সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট একদল পুলিশকর্মীকে বলছেন, কেউ যেন ব্যারিকেড না ভাঙে। যদি কেউ সেই চেষ্টা করে, তাঁদের মাথায় আঘাত করতে হবে। ওই ভিডিও দেখে হরিয়ানা সরকারের নিন্দায় মুখর হয় নানা মহল।
এরপরে বেশ কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। একটিতে দেখা যায়,একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, রাস্তার ওপরে খাটিয়া পেতে বসে আছেন কৃষকরা। এদিকে তিন কিলোমিটার জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে গাড়ি, বাস এবং ট্রাক। অপর একটি ক্লিপে দেখা যায়, হেলমেট পরা দুই পুলিশকর্মী এক ব্যক্তির সঙ্গে তর্ক করছেন। সেই ব্যক্তিকে দেখে মনে হচ্ছে, তিনি গুরুতর আহত। তাঁর জামায় লেগে রয়েছে রক্ত। মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা রয়েছে। তৃতীয় একটি ভিস্যুয়ালে দেখা যায়, বড় সংখ্যক পুলিশ হেলমেট পরে দাঁড়িয়ে আছে।
পুলিশের অবশ্য পাল্টা দাবি, কৃষকরা লাঠি দিয়ে বিজেপির রাজ্য প্রধানের গাড়িতে আঘাত করেন। ওই এলাকা থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে বিজেপির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কৃষকরা মিছিল করে সেদিকে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সেদিন পুলিশের হাতে মার খেয়ে আহত এক কৃষক মারা গিয়েছেন সোমবার। কৃষকনেতা গুরনাম সিং চাদুনি জানিয়েছেন, হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
পুলিশের ভূমিকায় প্রতিবাদের আঁচ কমার বদলে আরও বেড়ে যায়। ভারতীয় কিসান ইউনিয়নের নেতা গুরনাম সিংহ চাধুনি জানান, আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে এগোনো হচ্ছে। গোটা হরিয়ানা জুড়েই রাস্তা অবরোধ, বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়।