দ্য ওয়াল ব্যুরো : কেন্দ্রীয় সরকার যদি 'কালা কানুন' বাতিল না করে, তাহলে আপনি ভারতে আসবেন না। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের উদ্দেশে এমনই আবেদন জানিয়েছেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। এবার প্রজাতন্ত্র দিবসে বরিস জনসনকে প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়েছিল, ফের আলোচনায় বসুন। কবে আলোচনায় বসা হবে তা আপনারাই ঠিক করুন। গত মঙ্গলবার সরকারের প্রস্তাব নিয়ে কৃষক ইউনিয়নগুলির আলোচনায় বসার কথা ছিল। কিন্তু পরে জানা যায়, মঙ্গলবারের বদলে ওই বৈঠক হবে বুধবার। এর মধ্যে কৃষক নেতারা আবেদন জানিয়েছেন, আম্বানি ও আদানির প্রতিটি দোকান বয়কট করুন।
পাঞ্জাবের কৃষক নেতারা অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর কৃষি আইনগুলির পক্ষে প্রচার করছেন। তিনি আলোচনায় বসার আবেদন জানাচ্ছেন বটে, কিন্তু কৃষি আইন বাতিল করার কথা বলছেন না। দিল্লির সীমান্তে সিংঘু অঞ্চলে ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন (লাখওয়াল)-এর আহ্বায়ক হরেন্দর সিং লাখওয়াল বলেন, "আমরা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছি, যতদিন না কৃষকদের দাবি পূরণ হচ্ছে, আপনি ভারতে আসবেন না। পাঞ্জাবের যে সন্তানরা এখন ব্রিটেনে রাজনীতি করেন, সেখানে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের মাধ্যমে ওই আবেদন জানানো হয়েছে।"
এদিন জানা যায়, বৃহস্পতিবার তিনটি কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে রাস্তায় নামবেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী। এরপরে তিনি দেখা করবেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে। কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কংগ্রেস সাংসদরা দেশ জুড়ে দু'কোটি সই সংগ্রহ করেছেন। সেই স্বাক্ষর সম্বলিত কাগজটি রাহুল তুলে দেবেন রাষ্ট্রপতির হাতে।
বুধবারই কৃষকদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আপনাদের কোনও ক্ষতি হতে দেবেন না।
রাজনাথ সিং-এর কথায়, "কিষাণ দিবসে আমি দেশের সকল অন্নদাতাকে অভিনন্দন জানাই। তাঁদের জন্যই দেশে খাদ্য নিরাপত্তা বজায় আছে। কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কয়েকজন কৃষক বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। সরকার সংবেদনশীলতা নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলছে। আমি আশা করি, তাঁদের আন্দোলন শেষ হবে শীঘ্র।"
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিন্দিতে টুইট করে বলেন, "চৌধুরি চরণ সিং চাইতেন, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাক। তাঁদের উৎপাদিত ফসল ভাল দাম পাক। কৃষকরা সম্মান পান।" রাজনাথ দাবি করেন, "আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত। তিনি কৃষকদের স্বার্থেই পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী কখনও কৃষকদের ক্ষতি হতে দেবেন না।"