
শেষ আপডেট: 18 August 2023 04:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সপরিবার শিবমন্দিরে পুজো দিতে এসেছিলেন পবন। কে জানত, সেই মন্দিরেই চাপা পড়ে মরতে হবে (Family Loses 3 Generations)! সিমলার সামার হিলের শিব বাওয়ারি মন্দিরের সামনে এখনও মাথা খুঁড়ে চলেছেন পবনের ভাই বিনোদ। জানিয়েছেন, দাদার পরিবারের পাঁচ সদস্যের দেহ উদ্ধার করা গেলেও এখনও দু’জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি (Shimla Landslide)। আশঙ্কা, বেঁচে নেই কেউই। কিন্ত দেহটুকু যেন পাওয়া যায়, সেই আশাতেই প্রার্থনা।
তাঁরা সপরিবার পুজো দিচ্ছিলেন ভিতরে। বাইরে তখন মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। কিন্তু ভিতরে যে আরও বড় বিপর্যয় হতে চলেছে, কেউ ভাবতেও পারেননি। মন্দিরে পুজো করার সময়েই মেঘভাঙা বৃষ্টিতে মাটির নীচে ধসে যায় মন্দির! গুঁড়িয়ে যায় দেওয়ার, ছাদ। সেই ধ্বংসস্তূপেই চাপা পড়ে যান পবন ও তাঁর পরিবারের পরবর্তী তিন প্রজন্ম।
সেই ধ্বংসাবশেষ থেকে কোনও মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে খবর পেলেই দৌড়ে যাচ্ছেন বিনোদ। বারবারই ফিরছেন নিরাশ হয়ে। সকলের শেষকৃত্য কি সারতে পারবেন না স্বস্তিতে, এই প্রশ্নই কুরে খাচ্ছে তাঁকে। তিনি বলেন, ‘তিনটি বাচ্চা-সহ আমার দাদার পরিবারের পাঁচ জন মারা গিয়েছেন ওই মন্দিরের তলায়। আরও দু'জন ছিলেন, উদ্ধারকারীরা তাঁদের দেহ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।'
সেদিন পবনদের পরিবারের সঙ্গে মন্দিরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর ছোট বোনেরও। তিনি যাননি, প্রাণে বেঁচে গেছেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে বলছিলেন, 'এই যন্ত্রণা আমি সারাজীবন বয়ে বেড়াব। আমাদের গোটা পরিবার ধ্বংস হয়ে গেল। আমি দাদা এবং বাকিদের দেহ শেষ বারের মতো দেখতে চাই। আমার কপালে মৃত্যু লেখা ছিল না, তাই আমি বেঁচে গেলাম।’
পবনের পরিবারের তিন প্রজন্ম তো বটেই ওই মন্দিরে সেদিন চাপা পড়ে মারা গেছেন আরও অনেকে। এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ১১ মৃতদেহ। প্রিয়জনের খোঁজে বহু আত্মীয়-পরিজন দাঁড়িয়ে মন্দিরের বাইরে। স্বজনহারাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস।
একনাগাড়ে বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ (Himachal Flood), উত্তরাখণ্ডের মতো উত্তর ভারতের পাহাড়ি রাজ্যগুলি। লাগাতার বর্ষণে একাধিক এলাকায় নামছে ধস। ভেঙে পড়ছে বড় বড় বাড়ি। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। বৃহস্পতিবার অবধি সেখানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮১ জন। আগামী কয়েকদিন রাজ্যগুলিতে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কার কথা শুনিয়েছে মৌসম ভবন। আপাতত জোরকদমে উদ্ধারকাজ চলছে। নামানো হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও। মাসদুয়েক আগেও অতি ভারী বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত হয়েছিল হিমাচল প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা।
সিমলা-সহ বেশ কয়েকটি জেলায় ভূমিধসও হয়েছে। ধসে গিয়েছে সিমলা-কালকা টয় ট্রেনের লাইন। গত জুন থেকে বর্ষা শুরুর পর এই রাজ্যে এখনও অবধি মোট ২১৪ জন মারা গিয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন ৩৮ জন।