মুখ্যমন্ত্রী যে চিঠির কথা বলেছেন তা তাঁদের হাতে আসেনি। ফালাকাটার বধূ অঞ্জলি শীল এমনটাই জানিয়েছেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 23 July 2025 20:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে বিস্ফোরক দাবি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। জানিয়েছিলেন, ফরেনার্স ট্রাইবুনাল থেকে সরাসরি চিঠি এসে পৌঁছেছে আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটায় (Falakata) এক দম্পতির বাড়িতে। এই প্রসঙ্গেই তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন - অসম কীভাবে বাংলার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে? কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অস্বস্তি বাড়ল। কারণ সংবাদমাধ্যমে ওই পরিবারের তরফে জানান হয়েছে, এমন কোনও চিঠিই তাঁরা পাননি!
মুখ্যমন্ত্রী যে চিঠির কথা বলেছেন তা তাঁদের হাতে আসেনি। ফালাকাটার বধূ অঞ্জলি শীল এমনটাই জানিয়েছেন। তাঁর সোজাসাপ্টা প্রশ্ন, "যদি আমার নামে সত্যিই নোটিস পাঠানো হয়, তা হলে সেটা হয় আমার কাছে আসবে, নয়তো পুলিশের হাতে থাকবে। কিন্তু সেটা সংবাদমাধ্যমের হাতে কীভাবে চলে গেল?" তাঁর স্বামী নিত্য শীলের বক্তব্য, তাঁদের আদি বাড়ি অসমে। আত্মীয়স্বজনদের সবারই এনআরসি হয়ে গেছে। শ্বশুরবাড়ির সকলেরও নাম উঠেছে তালিকায়। তাই কোনও রকম সন্দেহজনক পরিস্থিতি নেই যে তাঁদের বিরুদ্ধে এই ধরনের নোটিস জারি করা হতে পারে।
অঞ্জলি জানান, মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ার থেকে এক সাংবাদিক তাঁকে ফোন করে বলেন যে তাঁর নামে কোনও নোটিশ নাকি এসেছে। তিনি তখনই বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আমি তো কোনও চিঠিই পাইনি। আমার নামে নোটিশ এলে সেটা প্রথমে আমার কাছেই আসার কথা। অথচ সেটা গেল কোথায়? মুখ্যমন্ত্রী কবে, কীভাবে পেলেন?”
সংবাদমাধ্যমের হাতে থাকা নথি অনুযায়ী, অসমের কোকরাঝাড় জেলার ফরেনার্স ট্রাইবুনাল থেকে ৩ জুলাই নোটিশ জারি হয়েছে। সেটি নাকি পাঠানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলা পুলিশের মাধ্যমে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মন সরাসরি তৃণমূলকে আক্রমণ করে বলেন, “নাগরিকত্ব নিয়ে তৃণমূল পরিকল্পিত রাজনীতি করছে, এটা তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। যদি নোটিস আসল হয়, তা হলে সেটা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছল কীভাবে?'' প্রশ্ন তাঁর।