শিয়ালদহ ডিভিশনে টিকিট পরীক্ষক সেজে প্রতারণার ঘটনা নতুন নয়। মাঝেমধ্যেই যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন—নকল টিটিই পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ আদায় করছে অসাধু চক্র। সেই দৌরাত্ম্য রুখতেই অবশেষে বড়সড় পদক্ষেপ করল ইস্টার্ন রেলওয়ে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 24 November 2025 22:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিয়ালদহ ডিভিশনে (Sealdah Division) টিকিট পরীক্ষক (TTE) সেজে প্রতারণার ঘটনা নতুন নয়। মাঝেমধ্যেই যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন—নকল টিটিই (Fake TTE) পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ আদায় করছে অসাধু চক্র। সেই দৌরাত্ম্য রুখতেই অবশেষে বড়সড় পদক্ষেপ করল ইস্টার্ন রেলওয়ে (Eastern Railway)। টিকিট পরীক্ষকদের জন্য চালু করা হল বিশেষ ‘ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন ব্যাজ’ (Unique Identification Badge)। এই ব্যাজই এখন কোনও টিটিই-র প্রকৃত পরিচয়ের সরকারি প্রমাণ।
এই উদ্যোগের নেতৃত্বে রয়েছেন শিয়ালদহ ডিভিশনের সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার জসরাম মীনা। তাঁর তত্ত্বাবধানেই ডিআরএম রাজীব সাক্সেনার নির্দেশে ব্যাজ ব্যবস্থা চালু হয়। নিয়মও স্পষ্ট: ডিউটিতে থাকা প্রতিটি টিটিইকে (TTE) এই ব্যাজ পরতেই হবে, কোনও ব্যতিক্রম নয়। ফলে যাত্রীরা এখন চোখের দেখাতেই বুঝতে পারবেন—কার সামনে টিকিট দেখানো উচিত, আর কার নয়।

ইতিমধ্যে এর বাস্তব ফলও হাতে এসেছে। ব্যাজ ছাড়াই ট্রেনে ঘোরাঘুরি করছিল এমন বেশ কয়েকজন ভুয়ো টিটিই-কে (Fake TTE) ধরে ফেলেছেন রেলকর্মী এবং যাত্রীরা মিলিতভাবে। রেল সূত্রের দাবি, নতুন ব্যবস্থা চালু হতেই যাত্রীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক হয়েছেন। অভিযোগের সংখ্যা কমেছে, আর সন্দেহজনক আচরণ দেখলে যাত্রীরা সঙ্গে সঙ্গেই কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছেন।
রেলের তরফে স্পষ্ট বার্তা—যাত্রী নিরাপত্তা এবং পরিষেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই প্রথম লক্ষ্য। টিকিট চেকিংয়ের (Ticket Checking) মতো সংবেদনশীল জায়গায় দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। নকল টিটিই চক্রকে নির্মূল করতেই ‘ইউনিক ব্যাজ’ ব্যবস্থা কার্যকর হবে বলে আশা কর্তৃপক্ষের।
সঙ্গে যাত্রীদেরও অনুরোধ করা হয়েছে, ট্রেনে টিকিট পরীক্ষা করতে এলে টিটিই-র ইউনিক ব্যাজটি দেখে নেবেন। কোনও সন্দেহ হলে নিকটবর্তী রেলকর্মী বা রেল পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, যাত্রীর সচেতনতা থাকলে প্রতারণা অনেকটাই কমবে।
শিয়ালদহ ডিভিশন জানিয়েছে, যাত্রী পরিষেবা ও নিরাপত্তা বাড়াতে এ উদ্যোগই শেষ নয়। ভবিষ্যতে আরও একাধিক আধুনিক পদ্ধতি ও পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু আপাতত ভুয়ো টিটিই দমনে এই ইউনিক ব্যাজই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র।
রেলের এক আধিকারিকের কথায়, “ট্রেনে ওঠা যাত্রীকে নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। এই ব্যাজ ব্যবস্থা সেই দায়িত্বই আরও দৃঢ় করছে।