এই বিশ্বাসঘাতকতা কোনওভাবেই মেনে নিতে পারেননি তিনি। শেষমেশ সিদ্ধান্ত নেন—যিনি তাঁর জীবনে মৃতপ্রায়, তাঁকে সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিতে চিরতরে বিদায় জানাবেন। আর সেই মতোই আয়োজন করেন এক অভিনব শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের।

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 6 August 2025 13:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার (Extramarital Affair) অভিযোগ! যার জেরে দাম্পত্য বন্ধন চ্ছিন্ন হয়েছিল আগেই। এবার নিয়ম মেনে জীবিত স্ত্রীর ‘শ্রাদ্ধ’ করলেন স্বামী (Husband, Wife)!
ঘটনাস্থল, উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Porogana) হিঙ্গলগঞ্জের উত্তর মামুদপুর গ্রাম। প্রাক্তন সেনা কর্মী নরেন নায়কের এই কাণ্ড ঘিরে রীতিমতো তোলপাড় পড়ে গিয়েছে এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রের খবর, তিন বছর আগে ধলতিথার বাসিন্দা সুমিতা সরকারের (৩৩) সঙ্গে আলাপ থেকে প্রেম, এবং তারপর সাত পাকে বাঁধা। দাম্পত্যের শুরুর দিনগুলো কেটেছিল সুখেই। কিন্তু কিছুদিন পর থেকেই শুরু হয় টানাপড়েন।
নরেনবাবুর অভিযোগ, “স্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পুরুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করেন। পরে তা গাঢ় সম্পর্কের দিকে গড়ায়।” আচমকাই একদিন স্ত্রী নিখোঁজ হয়ে যান। খোঁজাখুজির পরে নরেনবাবুর দাবি, “জানতে পারি, স্ত্রী অন্যত্র ঘর বেঁধেছেন।”
এই বিশ্বাসঘাতকতা কোনওভাবেই মেনে নিতে পারেননি তিনি। শেষমেশ সিদ্ধান্ত নেন—যিনি তাঁর জীবনে মৃতপ্রায়, তাঁকে সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিতে চিরতরে বিদায় জানাবেন। আর সেই মতোই আয়োজন করেন এক অভিনব শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের।
পুরোহিত ডেকে স্ত্রীর ছবিতে মালা দেন, শ্রদ্ধা জানান। তারপর সেই ছবিই যজ্ঞের আগুনে পুড়িয়ে দেন। মাথা ন্যাড়া করে যজ্ঞ ও পিণ্ডদান সম্পন্ন করেন। উপস্থিত ছিলেন গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দাও।
নরেনবাবুর কথায়, “আমার কাছে স্ত্রী মৃত। যিনি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, অন্য সম্পর্কে জড়িয়েছেন, তাঁর সঙ্গে আমার আর কোনও সম্পর্ক থাকতে পারে না। তাই ধর্মমতে তাঁকে বিদায় জানালাম।”
এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় চরম চাঞ্চল্য। কেউ বলছেন, “এটা নিছক নাটক।” কেউ আবার বলছেন, “বিশ্বাসঘাতকতা যাঁরা সহ্য করতে পারেন না, তাঁদের পক্ষে এমন প্রতিক্রিয়া অস্বাভাবিক নয়।” তবে এ ব্যাপারে সুমিতা দেবীর পরিবারের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।