উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলি নিষ্ক্রিয় করা হয় সেখানেই। প্রথম দফার ভোটের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি, তার আগেই এমন বিপজ্জনক বিস্ফোরক মজুত থাকার ঘটনা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 5 April 2026 15:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Election 2026) যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সভা রয়েছে কোচবিহারে। তার আগে জেলা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরপর নদিয়ায় বিস্ফোরক (Nadia Explosives Found) উদ্ধারের ঘটনা ঘটল।
রবিবার সকালে নদিয়ার করিমপুরের কাঠালিয়া এলাকায় খোলা মাঠের এক পরিত্যক্ত জায়গা থেকে উদ্ধার হয় বস্তাভর্তি তাজা বোমা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। উপস্থিত ছিলেন উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলি নিষ্ক্রিয় করা হয় সেখানেই। প্রথম দফার ভোটের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি, তার আগেই এমন বিপজ্জনক বিস্ফোরক মজুত থাকার ঘটনা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
এর আগে কোচবিহারেও ঘটে গিয়েছে আরেকটি গুরুতর ঘটনা। চ্যাংড়াবান্ধা এলাকায় গভীর রাতে নাকা তল্লাশির সময় দুই ব্যক্তিকে আটক করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। তাঁদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তল্লাশি চালানো হলে উদ্ধার হয় একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র। ধৃতদের কাছ থেকে পাওয়া যায় ছ’টি দেশি পিস্তল এবং কুড়ি রাউন্ড কার্তুজ। পরে তাঁদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই দুই ব্যক্তি মেখলিগঞ্জ দিক থেকে অস্ত্র নিয়ে আসছিল। তবে এই অস্ত্র আনার পিছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার ঠিক আগের রাতে এই ঘটনা ঘটায় বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। গোটা ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এতেই শেষ নয়, শনিবার মালদহেও আরেকটি নিরাপত্তা ঘিরে ঘটনা সামনে আসে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার উড়ানের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আচমকাই সামনে ভেসে ওঠে একটি ড্রোন। মালতীপুর এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়ায়। ড্রোনটি চোখে পড়তেই মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং পুলিশের কাছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান।
এই ঘটনার পর দ্রুত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও তাঁদের কাছে বৈধ পরিচয়পত্র ও অনুমতি ছিল, তবুও কেন তাঁরা এমন সময়ে ড্রোন ওড়ালেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে এমন কাজ করার কারণ খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা।
সব মিলিয়ে, রাজ্যে ভোটের আগে নিরাপত্তা বলয় ঘিরে একের পর এক ঘটনায় প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বিস্ফোরক উদ্ধার, অস্ত্রসহ গ্রেফতারি এবং ড্রোন ঘিরে বিতর্ক - এই সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি যে অত্যন্ত সংবেদনশীল, তা স্পষ্ট। এখন নজর তদন্তের অগ্রগতির দিকে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও কড়াকড়ির দিকে।