ঘটনার পরই প্রশ্ন উঠেছে - এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে? পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ঠিক কী পরিস্থিতিতে গুলি ছুটল, সেটাই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 5 April 2026 13:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Election 2026) যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে নিরাপত্তার তৎপরতা। বিভিন্ন জেলায় কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল, রুট মার্চের শব্দ (Central Force)। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় দায়িত্ব এখন এই বাহিনীগুলির কাঁধে। কিন্তু এই প্রস্তুতির মধ্যেই একের পর এক অস্বাভাবিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনিক মহলে।
নদিয়ার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় এক কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের মৃত্যুর (BSF Jawan Death At Nadia Border) ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। করিমপুরের মুরুটিয়ার রানিনগর ক্যাম্পে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারান ওই জওয়ান। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে ডিউটি চলাকালীন তাঁর বন্দুক থেকেই গুলি ছিটকে যায়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরই প্রশ্ন উঠেছে - এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে? পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ঠিক কী পরিস্থিতিতে গুলি ছুটল, সেটাই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মৃত জওয়ানের নাম বৈভব আন্না মণ্ডলে, বয়স ৩৪। তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি ব্যাটেলিয়ানে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলার খাঁওকি এলাকায়। ঘটনার সময় তিনি ক্যাম্পে প্রহরার দায়িত্বে ছিলেন। সেই সময়ই তাঁর হাতে থাকা রাইফেলের নল থেকে গুলি বেরিয়ে এসে তাঁর চোয়ালে আঘাত করে বলে জানা গিয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি।
ঘটনার আকস্মিকতা এবং অস্বাভাবিক পরিস্থিতি ঘিরে ধোঁয়াশা কাটেনি। সহকর্মীদের কাছেও বিষয়টি রহস্যজনক বলেই মনে হচ্ছে। তদন্তকারীরা সব দিক খতিয়ে দেখছেন, অস্ত্রের ত্রুটি, অসাবধানতা, নাকি অন্য কোনও সম্ভাবনা।
এই ঘটনার মাত্র এক দিন আগেই আরেকটি উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছিল পূর্ব মেদিনীপুরে। দিঘার একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে কর্তব্যরত এক কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান নিজের সার্ভিস অস্ত্র থেকে গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন। ভোরের দিকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গুরুতর জখম হন ওই জওয়ান। তাঁকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভোটের আগে টানা দায়িত্ব, মানসিক চাপ এবং দীর্ঘ সময়ের ডিউটির মধ্যে এই ধরনের ঘটনা সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাঁরা দায়িত্বে, তাঁদের মধ্যেই এই ধরনের দুর্ঘটনা বা আত্মঘাতী প্রবণতা দেখা দেওয়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগের।
সব মিলিয়ে, রাজ্যে ভোটের আগে নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই একের পর এক এই ঘটনা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে সকলে।