
শেষ আপডেট: 17 November 2019 09:15
পাখির মমি হাতে গবেষক[/caption]
অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক স্যালি ওয়াসেফই এই গবেষণা নিয়ে প্রথম বইটি লিখছেন। তিনি বলেন, “আইবিসকে থথের অংশ বলে মনে করা হত। থথ ছিলেন জ্ঞান, জাদু, বিচার, লেখা প্রভৃতি বিষয়ের দেবতা।”
তিনি মনে করেন, “আপনার বস ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি কোনও কারণে আপনার উপরে অসন্তুষ্ট হয়ে থাকেন তখন তাঁর কাছ থেকে উপযুক্ত বিচার পাবেন না বলে আপনি আশঙ্কা করছেন, এই অবস্থায় আপনি থথের কাছে মানত করলেন। মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হলে বৎসরান্তে আপনি একটি আইবিস পাখি উৎসর্গ করলেন, তবে মমি করে।” তা বলে এত পাখি! এই প্রশ্নের উত্তর এখনও খুঁজে চলেছেন গবেষকরা।
এ ব্যাপারে তাঁরা সেবেন্নিটসের হর নামে এক পুরোহিতের একটি লেখার উপরে ভরসা করছেন। সেখানে লাখ লাখ আইবিস পাখিকে খাওয়ানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য ১৪টি আইবিসের মমির ডিএনএ পরীক্ষা করেছেন গবেষকরা। একই সঙ্গে সংগ্রহ করেছেন আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের ২৬টি এই ধরনের পাখির ডিএনএ। সময়ের সঙ্গে ডিএনএ ভেঙে যায়, তাই পরীক্ষায় অভীষ্ঠ ফল পেতে তাঁরা পরীক্ষা করছেন কোষের শক্তিকেন্দ্র বলে পরিচিত মাইটোকনড্রিয়ার ভিতরের ডিএনএ। তাতে হিসাব অনেক কাছাকাছি হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে প্লজ ওয়ান নামে একটি জার্নালে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, আধুনিক পাখির সঙ্গে বহুলাংশে সাদৃশ্য পাওয়া গেছে প্রাচীন আইবিসের মমির। তখন অবশ্য আইবিস অনেক বেশি প্রজননক্ষম ছিল। সম্ভবত তখন বৈচিত্র্য কম ছিল এই জাতের পাখির।
ওয়াসেফ মনে করেন, কৃত্রিম ভাবে প্রজননের চেষ্টা করা হত না, তারা চরে বেড়াত প্রাকৃতিক পরিবেশেই। দরকার মতো ধরে এনে সাময়িক ভাবে রাখা হত খামারে, তার পরে তাকে উৎসর্গ করা হত।
[caption id="attachment_159697" align="aligncenter" width="600"]
পাখির মমি[/caption]
তিনি বলেন, “সবচেয়ে মিল যে ব্যাপারে দেখা গেছে তা হল, প্রায় প্রতিটি মন্দিরের কাছেই হ্রদ বা জলাভূমি ধরনের কিছু ছিল – এই ধরনের জায়গাই হল আইবিসদের স্বাভাবিক বাসস্থান – খেতে দিল তারা তো আসবেই।” তিনি দেখেছেন টুনা-এল-গ্যাবেলের পাশে জলা ছিল, সাক্কারায় মন্দিরের কাছেই ছিল লেক অফ দি ফারাও।
ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউটের ডিএনএ বিশেষজ্ঞ পন্তাস ক্লোগলান্দ বলেন, “আড়াই হাজার বছর আগের ডিএনএ নিয়ে কাজ, সত্যিই অসাধারণ।” তিনি বলেছেন, পাখিগুলির ডিএনএ পরীক্ষা করে জেনেছেন যে সেগুলি প্রাকৃতিক পরিবেশে থাকা পাখি, তবে হ্যাচারির আয়তন যদি বিশাল বড় হয়, তা হলে অন্য কথা। তবে দ্বিতীয় একটি সম্ভাবনার কথাও তিনি বলেছেন, “হতে পারে যে হ্যাচারি ছিল এবং বনের পাখি সেখানে আসত, সেখানে খেত এবং প্রজনন করত।”
ওয়াসেফ জানিয়েছেন, হ্যাচারির কোনও চিহ্ন তাঁরা পাননি। পাখি মেরে রেজিনে ডুবিয়ে মমি করা হত। তবে মাটির নীচে বেশ কয়েকটি নকল মমিরও সন্ধান পাওয়া গেছে। পাখির বাসা তৈরির উপকরণ, ডিমের খোসা – এসবও পাওয়া গেছে। হ্যাচারিতে পাখি পাওয়া গেলে নকল মমি তৈরির দরকার পড়ত না বলেই তিনি মনে করেন। নকল মমি মানে আমাদের এখানে যেমন আসল আসল নীলকণ্ঠ পাখির বদলে মাটির পাখি উৎসর্গ করা হয়, তেমন ব্যাপার।
প্রাচীন মিশরে প্রাণী বলির ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ তথা কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল নিকলসন জানান, থথকে উৎসর্গ করার জন্য খুব অল্পসংখ্যক পাখিকেই মন্দিরে রাখা হত, তাদেরই হয়তো কৃত্রিম প্রজনন হত। তবে পাখি উৎসর্গ করা নিয়ে এটা হল দলের মত। তিনি বলেন, “বছরের কোনও একটা সময়ে দল বেঁধে পাখির দল আসতেই পারে, তখন তাদের উৎসর্গ করা হত।”