একেরপর এক নির্বাচনে কংগ্রেস-সিপিএমের রাজনীতি দিশাহীন হয়ে পড়েছে। এখন দেখার সেলিম-শুভঙ্কররা একে অপরকে দিশা দেখাতে পারেন কিনা।

গ্রাফিক্স: শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 19 July 2025 20:04
জয়ের কোনও বাস্তব সম্ভাবনা ছিল না, তা বিলক্ষণ জানত বাম-কংগ্রেস। তবু লক্ষ্য ছিল রাজ্যে মেরুকরণের রাজনীতির ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা। কালীগঞ্জের উপনির্বাচনে সেই প্রয়াসে একসঙ্গে কোমর বেঁধে মাঠে নামে দুই দল। কিন্তু জামানত রক্ষা করতে পারেনি। তাহলে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ব্লু প্রিন্ট কেমন হবে? দ্য ওয়ালকে সিপিএম (CPIM) রাজ্য সম্পাদক স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, সবটাই নির্ভর করবে অপর পক্ষের সিদ্ধান্তের উপর।
‘দ্বিমেরু’ রাজনীতি ভেঙে উল্লেখযোগ্য ‘তৃতীয় মেরু’ বা ‘বিকল্প শক্তি’ হিসেবে মাথা তোলার থেকেও স্বভাবিকভাবেই বাম-কংগ্রেস চাইবে গত বছর হওয়া লোকসভা নির্বাচনের প্রাপ্তিটুকু জিইয়ে রাখতে। শনিবার দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের কথাতেও সেই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। সেলিমের (Md Salim) বক্তব্য, "ভোটের বেশি দেরি নেই। জোটটাঅ এখন নেই। যেটা আছে সেটা বৃহত্তর বাম জোট। জোটটা হয়ই একটা নির্দিষ্ট রাজনীতির উপর ভিত্তি করে। জোট করতে হলে বিজেপি-তৃণমূলের বিরুদ্ধে যাঁরা আছে, ইনক্লুডিং কংগ্রেস (Congress), তাঁদের সবার সঙ্গে কথাবার্তা বলতে হয়, আসন সমঝোতা করতে হয়। নির্বাচনের সময় যাতে ভোট ভাগাভাগি না হয় সেই জন্যই তো আসন সমঝোতা করি।"
সেলিম বলেন, "কার সঙ্গে এই আসন সমঝোতা করব? কংগ্রেসের কথা বললে তাদেরও তো এ ব্যপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অধীররঞ্জন চৌধুরী যখন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন, তখন সমঝোতা করেছি। কোনও অসুবিধা হয়নি। সোমেন মিত্র যখন ছিলেন, তখন আলোচনা হয়েছিল। আবার এটাও ঘটনা যে শুধু প্রদেশ কংগ্রেস বা জেলা কংগ্রেস বললেই জোট হয় না, এআইসিসি-কেও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিয়ে বা বন্ধুত্বের সম্পর্কের মতোই, এক্ষেত্রেও উভয় পক্ষের সম্মতি নেওয়া প্রয়োজন।"
ভোটের ফলাফল যাই বলুক, বাম ও কংগ্রেস এখনও মনে করে, তাদের ভোটশক্তি পুরোপুরি মুছে যায়নি। বরং সঠিক বার্তা, নির্দিষ্ট রণকৌশল থাকলে বহু আসনে লড়াই দেওয়া সম্ভব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেরই ধারণা, ছাব্বিশের ভোটের রণকৌশল শুরুই হবে বাম-কংগ্রেস জোট নিয়ে।
কিন্তু দুই দলের সঙ্গবদ্ধ লড়াইয়েও লাগাতার ব্যর্থতার কারণ শুধুমাত্র ‘মেরুকরণ’ নয় বলেও অনেকে মনে করেন। তাঁদের মতে, সিপিএম এবং কংগ্রেস এ রাজ্যে স্পষ্ট ভাবে ‘শত্রু’ চিহ্নিত করতে পারছে না। তৃণমূলকে ‘প্রধান শত্রু’ ঘোষণা করা হবে, নাকি বিজেপিকে, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে। যে কারণে একেরপর এক নির্বাচনে কংগ্রেস-সিপিএমের রাজনীতি দিশাহীন হয়ে পড়েছে। এখন দেখার সেলিম-শুভঙ্কররা একে অপরকে দিশা দেখাতে পারেন কিনা।