এখন ৮৭ বছর বয়স শশীকান্তবাবুর। সেই মানুষটিই নিজের দেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না তা অনিশ্চিত! কারণ ভোটার তালিকায় আবার নাম তুলতে অনেক দৌড়ঝাঁপ করতে হবে তাঁকে। এটা ভেবেই এখন শঙ্কিত ৮৭ বছরের বৃদ্ধ। যিনি তিন দশক সেনায় ছিলেন, পেনশন পান কেন্দ্রীয় সরকার থেকে, তাঁর নাম কী করে মুছে গেল ভোটার তালিকা থেকে, সেটাই ভেবে পাচ্ছেন না তিনি।

প্রাক্তন সেনাকর্মী শশীকান্ত হালদার।
শেষ আপডেট: 12 November 2025 16:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: চুঁচুড়ার কাপাসডাঙা লিচুতলার বাসিন্দা, প্রাক্তন সেনাকর্মী শশীকান্ত হালদার। তিন দশক ধরে দেশের সেবায় ছিলেন। রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন শান্তিসেনার সদস্য হয়ে শ্রীলঙ্কাতেও গিয়েছিলেন। কাজের সূত্রে ফোর্ট উইলিয়াম থেকে লাদাখ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গেছেন। অবসর নিয়েছেন প্রায় ৩৪ বছর আগে। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন একাধিক নির্বাচনে। সেই প্রাক্তন সেনাকর্মী শশীকান্ত হালদারের নাম বাদ গেল ভোটার তালিকা থেকে। পেলেন না এনুমারেশন ফর্ম।
ভারতীয় সেনার মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন প্রায় তিন দশক। এখন ৮৭ বছর বয়স শশীকান্তবাবুর। সেই মানুষটিই নিজের দেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না তা অনিশ্চিত! কারণ ভোটার তালিকায় আবার নাম তুলতে অনেক দৌড়ঝাঁপ করতে হবে তাঁকে। এটা ভেবেই এখন শঙ্কিত ৮৭ বছরের বৃদ্ধ। যিনি তিন দশক সেনায় ছিলেন, পেনশন পান কেন্দ্রীয় সরকার থেকে, তাঁর নাম কী করে মুছে গেল ভোটার তালিকা থেকে, সেটাই ভেবে পাচ্ছেন না তিনি।
বৃদ্ধ শশীকান্তবাবু বলছেন, “১৯৬৪ সালে সেনায় যোগ দিয়েছিলাম। দেশের নানা প্রান্তে কাজ করেছি। শ্রীলঙ্কায় থাকতেই অবসরের সময় এসেছিল। তারপর থেকে প্রতিটি নির্বাচনে ভোট দিয়েছি। এবার বিএলও এসে জানালেন, আমার নাম ডিলিট হয়ে গেছে। তুলতে গেলে ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করতে হবে। কেন, বুঝতে পারছি না। আমার শরীর খুবই খারাপ। দু-বার অপারেশন হয়ে গেছে। বাড়ি থেকে খুব একটা বের হতে পারি না।”শশীকান্তবাবুর ছেলে বিনয় হালদার বলেন, “বাবা জীবিত, অথচ ভোটার তালিকায় নাম নেই! এখন আবার ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করতে হবে। শুনানিতে যেতে হবে। এত কিছুর চাপ উনি সামলাবেন কী করে? ভুল কমিশনের, ভুগতে হচ্ছে আমাদের। তাই বাড়িতে এসেই যা করার করে দিতে হবে। ভোটার তালিকায় নাম তুলতে কোথাও যেতে পারব না।”
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, যাদের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তারা উপযুক্ত নথি দেখিয়ে পুনরায় আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু শশীকান্তবাবুর পরিবারের প্রশ্ন একটাই, যে মানুষ এতদিন দেশের সীমানা আগলেছেন, তাঁকেই আজ নিজের দেশের ভোটার হতে নতুন করে প্রমাণ দিতে হবে কেন?