উৎসাহ দিতে এবার ব্লক ও জেলাকে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পঞ্চায়েত দফতর।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 7 June 2025 16:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে (Self-Help Groups) আর্থিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তুলতে সম্প্রতি আনন্দধারা প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নিরিখে এই মুহূর্তে সারা দেশে শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।
রাজ্যের মোট স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সংখ্যা ১২ লক্ষ ১ হাজার। এর সঙ্গে জড়িত প্রায় ১.২১ কোটি পরিবার। এই সংখ্যাটা আরও বাড়াতে এবং গ্রামের প্রতিটি মহিলাকে স্বনির্ভর করে তুলতে বড় উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য। এজন্য পঞ্চায়েত দফতরের তরফে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা এসওপি তৈরি করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রের খবর, গ্রামের একজন মহিলাও যেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বাইরে না থাকেন। সেজন্য আরও বেশি সংখ্যক স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উৎসাহ দিতে এবার ব্লক ও জেলাকে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পঞ্চায়েত দফতর।
কীভাবে গ্রামের সব মহিলাকে স্বনির্ভর গোষ্টীর আওতায় আনতে হবে, পঞ্চায়েত দফতরের তৈরি এসওপি-তে তা পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে। হতদরিদ্র পরিবারগুলির ক্ষেত্রে বাড়তি গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলি নিয়মিত পাচ্ছেন কিনা তাও খোঁজ নিতে বলা হয়েছে।
গ্রামীণ জনগণের আর্থিক উন্নতিতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রচলন শুরু হয়েছিল বাম আমলে। তৃণমূলের জমানায় তা আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। রাজ্যের পাশাপাশি ভিন রাজ্যে এবং জাতীয় স্তরের একাধিক মেলায় অংশ গ্রহণ করেছে এরাজ্যের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মেয়েরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, গুরুগ্রাম, তেলেঙ্গানা, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড, বিহার, দিল্লি। বিক্রয় বাড়ানোর জন্য কৌশলগতভাবে ই বিক্রয় কেন্দ্রও চালু করেছে রাজ্য। রাজ্যের তরফে ফি বছর এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীর স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ করা হয়। এর সেলাইয়ের কাজও করেন এই গোষ্ঠীর মহিলারা।
এবার গ্রামের সব মহিলাকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আওতায় আনতে পারলে সার্বিকভাবে গ্রামের প্রতিটি মহিলাও স্বনির্ভর হয়ে উঠবেন বলে আশাবাদী প্রশাসন।