ঘটনার পর তিন তিনটে দিন কেটে গেলেও এখনও এলাকাবাসীর চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট।

গ্রাফিক্স - দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 7 June 2025 14:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় বলে জলে কুমির (Tiger) ডাঙায় বাঘ (Crocodile)। গত মঙ্গলবার বাস্তবে তেমনই পরিস্থিত তৈরি হয়েছিল মৈপীঠে (Sundarban, Moupith)। ইতিমধ্যে বাঘ ও কুমির যথাস্থানে ফিরে গিয়েছে ঠিকই তবু আতঙ্ক কাটছে না মৈপীঠের নগেনাবাদ বোসের ঘেরি পাইকপাড়া এলাকায়।
ঘটনার পর তিন তিনটে দিন কেটে গেলেও এখনও এলাকাবাসীর চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। আতঙ্ক এতটাই যে তীব্র গরমের মধ্যেও পুুকুরে নামার পরিবর্তে বালতিতে করে জল তুলে স্নান করছেন অনেকে। কারণ, কোনওভাবে যদি কুমিরটি আবার পুকুরে ফিরে আসে!
একইভাবে বাঘের ভয়ে পারতপক্ষে সকাল-সন্ধে জঙ্গলপথ এড়িয়ে চলছেন বাসিন্দারা। অন্ধকার নামার আগেই বাইরের কাজ সেরে ঘরে ফিরছেন বাসিন্দারা। বিষয়টি অজানা নয় ঝড়খালি রেঞ্জের বনকর্মীদের। এক বনকর্মীর কথায়, আতঙ্ক ছড়ানোর মতোই বিষয়, একই গ্রামের জলে কুমির আর ডাঙায় বাঘ, শেষ কবে কেউ এমন পরিস্থিতির সন্মুখীন হয়েছেন?
সোমবার রাতে মৈপীঠের নগেনাবাদ বোসের ঘেরি পাইকপাড়ায় লোকালয় সংলগ্ন জঙ্গলে বাঘের দেখা পেয়েছিলেন এক বাসিন্দা। পড়িমরি করে তিনি প্রাণ হাতে করে গ্রামে ফিরে যান। 'বাঘ' ঢুকেছে, ঝড়ের গতিতে সে খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা। খবর দেওয়া হয় বনকর্মীরা।
রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে বনকর্মীরাও জঙ্গলপথে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান। টাইগার কুইক রেসপন্স টিমের তরফে বাসিন্দাদের ঘর থেকে বেরোতে নিষেধ করা হয়। তবে পরের দিন সকালে বাঘের পায়ের ছাপ ধরে পর্যবেক্ষণ করে বনকর্মীরা নিশ্চিত হন যে বাঘ লোকালয় লাগোয়া জঙ্গলে ফিরে গিয়েছে।
মৌপীঠের বাসিন্দা সঞ্জয় রক্ষিত, অম্লান দত্তরায়রা বলেন, "বাঘ ফিরে গিয়েছে ঠিকই, কিন্তু ফেরত আসতে কতক্ষণ? তাছাড়া সাবধানের মান নেই।"
অন্যদিকে মৈপীঠের মধ্য গুড়গুড়িয়া ময়রার চকের বাসিন্দা দিলীপ দলুইয়ের পুকুরে দেখা মিলেছিল অতিকায় কুমিরের। যে পুকুরে স্নান করছেন সেখানেই কুমিরকে সাঁতরে যেতে দেখে বাসিন্দাদের অনেকের আত্মারাম খাঁচা হওয়াগর জোগাড় হয়ে গিয়েছিল।
খবর পেয়ে মেশিন বসিয়ে পুকুরের জলের পরিমাণ কমিয়ে পাঁচ ফুট সাইজের কুমিরটিকে উদ্ধার করে ঝড়খালির খালে ছেড়ে এসেছিলেন বনকর্মীরা। কিন্তু খাল পথে কুমির যদি আবার ফিরে এসে থাকে! আতঙ্কে বাসিন্দাদের অনেকেই প্রখর গরমের পুকুরে নেমে স্নান করার আরাম থেকে স্বেচ্ছায় নিজেদের দূরে রেখেছেন। পরিবর্তে বালতিতে করে পুকুরের জল তুলে ঢালছেন মাথায়। তাও অতি সাবধানে। পাছে হঠাৎ করে দেখা দিয়ে কুমির যদি টেনে নিয়ে যায়।