১০০ দিনের প্রকল্পে অবিলম্বে রাজ্যের বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট। এ প্রসঙ্গে কটাক্ষের সুরে অভিষেক বলেন, "কোর্টেও হেরেছে, ভোটেও হেরেছে, তারপরও যেন তেন প্রকারেণ বাংলাকে ভাতে মারতে চাইছে। এখনও এদের সেই অপচেষ্টা চলছে, তই এদের আমরা বাংলাবিরোধী বলি!"
.jpeg.webp)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 28 October 2025 17:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় এসআইআর ( SIR, West Bengal) হলেও ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে বাংলায় তৃণমূলের আসন সংখ্যা একটা হলেও বাড়বে। আর বিজেপির আসন সংখ্যা ৫০ নীচে নামবে। মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক থেকে এই দাবি করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে (BJP, Election Commission) এক বন্ধনীতে রেখে অভিষেক বলেন, ""যারা বলছে বাংলায় এসআইআর হলে নাকি তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্ক ধসে যাবে, তাদের চ্যালেঞ্জ করে একথা বলছি। পরিষ্কার করে এটাও বলছি, এসআইআর এর নামে বাংলা থেকে একটা বৈধ ভোটারের নামও যদি বাদ যায় তাহলে দিল্লিতে কমিশনের অফিসে লাখো মানুষের বিক্ষোভ হবে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ট্রেলার দেখিয়েছিলাম, এবার পুরো সিনেমাটা দেখাব।"
বিহারের (Bihar) কায়দায় মঙ্গলবার থেকে বাংলা (West Bengal, politics)-সহ ১২ রাজ্যে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের (SIR) কাজ শুরু করেছে কমিশন। এদিন বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক থেকে কমিশনের এই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েই বড় প্রশ্ন তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কটাক্ষের সুরে অভিষেক বলেন, "আগে মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ঠিক করত কারা সরকার গড়বে আর এখন সরকার চাইছে তারা ঠিক করবে কে ভোট দেবে! তাই স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি নয়, এসআইআরের নাম করে ওরা প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দিতে চাইছে।"
অভিষেক বলেন, এই ভোটার লিস্ট ত্রুটি মুক্ত হলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রথম কর্তব্য অবিলম্বে পুরো সরকারের মন্ত্রিসভা এবং সাংসদের ইস্তফা দেওয়ার ব্যবস্থা করা। কারণ, এই ভোটার লিস্টের ভিত্তিতেই তো ওরা ক্ষমতায় এসেছে। তারপরে এসআইআর করুন না! কেও তো বারণ করছেন না।
পুরনো পরিসংখ্যান তুলে ধরে অভিষেক বলেন, "২০০২ সালে এসআইআর করতে ২ বছর সময় লেগেছিল, আর এখন ২ মাসে একসঙ্গে ১২ টা রাজ্যে এসআইআর করতে চাইছে! ২ বছরের কাজ কীভাবে ২ মাসে হবে? কী জাদু কাঠি আছে?"
প্রশ্ন তুলেছেন, ২১ এর বিধানসভা ভোটের পর গত লোকসভা ভোটের মাঝে থাকা ২ বছর সময়ে কেন এসআইআর করা হল না?
খানিক থেমে দেশের মানচিত্র বের করে জবাবও দিয়েছেন অভিষেক নিজেই। তাঁর কথায়, ২৬ সালের এপ্রিলে যে ৫টি রাজ্যে ভোট আছে তার মধ্যে বাংলার পাশাপাশি অসমেরও নাম রয়েছে। কিন্তু অসমে যেহেতু বিজেপির সরকার, তাই খুব কৌশলে ওরা অসমের নাম এসআইআর থেকে বাদ রেখেছে।
বিজেপির তরফে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করা হয়, বাংলায় নাকি ১ কোটি রোহিঙ্গা রয়েছে। এদিন এই অভিযোগেরও জবাব দিয়েছেন অভিষেক। তিনি বলেন, দেশের মানচিত্রর দিকে তাকালে দেখতে পাবেন, বাংলার সীমান্তে মেঘালয়, অসম, ত্রিপুরা, মিজোরাম রয়েছে, অথচ সেখানে এনআরসি হচ্ছে না। আবার মায়ানমার মানে যেখানে রোহিঙ্গার থাকে, তার সীমান্তে রয়েছে মণিপুর, মিজোরাম,, নাগাল্যান্ড, অরুনাচল প্রদেশ। অথচ সেখানে এনআরসি হচ্ছে না। বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গারা যে রাজ্য দিয়ে প্রবেশ করতে পারে, তাহলে সেই রুট পথে এনআরসি নয় কেন? তাহলে কমিশনের লক্ষ্য কী? আসলে এদের উদ্দেশ্য একটাই বাংলাকে অপমান করা, এবং যেহেতু গত লোকসভা ভোটে বাংলায় ওদের ল্যাজেগোবরে অবস্থা হয়েছে তাই আক্রোশ মেটাতে এসআইআরের নাম করে ঘুরপথে বাংলায় এনআরসি করার চেষ্টা করছে।
হুঁশিয়ারির সুরে এও বলেছেন, "আমরাই প্রথম দাবি করেছিলাম, স্বচ্ছ ভোটার তালিকার। কিন্তু এসআইআরের নাম করে একটা বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে এক লক্ষ পুলিশ দিল্লিতে গিয়ে কমিশনের অফিস ঘেরাও করবে, অমিত শাহের পুলিশ ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক।"
১০০ দিনের প্রকল্পে অবিলম্বে রাজ্যের বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট। এ প্রসঙ্গে কটাক্ষের সুরে অভিষেক বলেন, "কোর্টেও হেরেছে, ভোটেও হেরেছে, তারপরও যেন তেন প্রকারেণ বাংলাকে ভাতে মারতে চাইছে। এখনও এদের সেই অপচেষ্টা চলছে, তই এদের আমরা বাংলাবিরোধী বলি!"