পরিবেশ আদালতের (Environmental Court) প্রশ্ন, “জঙ্গলের মধ্যে নির্মাণ একদিনে হয়নি। এতদিন বন দফতর কী করছিল? দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ কি কেবল বসে ছিল পরিবেশকর্মী কখন মামলা করবেন, সেই অপেক্ষায়?”

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 23 July 2025 15:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি ও খোয়াই অঞ্চলের (Sonajhuri-Khowai Environment) পরিবেশগত অবক্ষয় নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিল জাতীয় পরিবেশ আদালত (ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল - এনজিটি)।
সংশ্লিষ্ট এলাকার জৈব ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের উপর যেভাবে হোটেল নির্মাণ, যান চলাচল ও হাট-বাজারের চাপ বেড়েছে, তা নিয়ে আদালত একরাশ উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র ভাষায় ভর্ৎসনা করেছে রাজ্য বন দফতর ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে।
পরিবেশ আদালতের (Environmental Court) প্রশ্ন, “জঙ্গলের মধ্যে নির্মাণ একদিনে হয়নি। এতদিন বন দফতর কী করছিল? দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ কি কেবল বসে ছিল পরিবেশকর্মী কখন মামলা করবেন, সেই অপেক্ষায়?”
আদালতের নির্দেশ, বন দফতর ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে একটি হলফনামা সহ পূর্ণাঙ্গ ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ (ATR) আগামী শুনানির মধ্যে জমা দিতে হবে। অন্যথায়, রাজ্যের মুখ্যসচিবকে তলব করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে এনজিটি।
পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত সোনাঝুরি ও খোয়াই অঞ্চল ঘুরে দেখে পরিবেশ বিপর্যয়ের তথ্য নথিভুক্ত করেন। তিনি জানান, “বেপরোয়া গাড়ি চলাচল, নির্দ্বিধায় গড়ে ওঠা স্থায়ী নির্মাণ আর হাটের আওয়াজে রোজ রোজ নষ্ট হচ্ছে প্রকৃতি। এই হাট-সংস্কৃতি যেমন দিনে দিনে গড়ে উঠেছে, তেমনই প্রশাসন তা দেখেও চুপ থেকেছে। এভাবে চললে বিশ্বভারতীর সংলগ্ন অঞ্চলটির পরিবেশগত ভারসাম্য সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে।”
খোয়াই ও সোনাঝুরি ছিল বিশ্বভারতীর নিকটবর্তী এক শান্তিপূর্ণ বনাঞ্চল, যেখানে একসময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রকৃতির মাঝে সাহিত্যচর্চা করতেন। সেই ঐতিহাসিক এলাকা আজ বাণিজ্যিক আগ্রাসন, পর্যটন চাপ, শব্দদূষণ ও অনিয়ন্ত্রিত হাটের দাপটে নষ্টপ্রায়।
এনজিটির হস্তক্ষেপে কিছুটা আশার আলো দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশপ্রেমীরা। তাঁদের কথায়, “এই পদক্ষেপ দেরিতে হলেও প্রয়োজনীয়। প্রশাসন যদি এখনই সক্রিয় ভূমিকা নেয়, তবে সোনাঝুরি ও খোয়াইয়ের ঐতিহ্য ও পরিবেশ আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব।”