খড়গপুরে নাইট ডিউটিতে যাওয়ার পথে চোর সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়ে গুরুতর জখম হন ইঞ্জিনিয়ার সৌম্যদীপ চন্দ। দশদিন আইসিইউতে লড়াই করে অবশেষে মৃত্যু হল তাঁর।
_0.jpg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 22 February 2026 15:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খড়গপুরে (Kharagpur) নাইট ডিউটিতে যাওয়ার পথে চোর ভেবে বেধড়ক মারধর ইঞ্জিনিয়রকে। মাথায় ভয়াবহ চোট। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানতে হল সৌম্যদীপ চন্দকে (Soumyadeep Chand)। পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ি ব্লকের গিলাগেড়িয়া গ্রামে শনিবার রাতে তাঁর নিথর দেহ পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিবার।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রের খবর, বয়স মাত্র ৩৩। পেশায় ইঞ্জিনিয়র। ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে খড়গপুরের নাইট ডিউটি (Night Duty) করতে বেরিয়েছিলেন সৌম্যদীপ। অভিযোগ, খড়গপুর লোকাল থানার অন্তর্গত আনারকলি (Anarkali) এলাকায় হঠাৎই একদল লোক তাঁকে ঘিরে ধরে চোর সন্দেহে মারধর শুরু করে। পরিবারের দাবি, বারবার নিজের পরিচয় দিতে চাইলেও কেউ কান দেয়নি। মাথায় তীব্র আঘাত লাগে।
তৎক্ষণাৎ তাঁকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে (Kharagpur Sub-divisional Hospital)। কিন্তু শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হওয়ায় সেদিনই তাঁকে ভুবনেশ্বরের হাইটেক হাসপাতালে (Hi-Tech Hospital, Bhubaneswar) স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে টানা দশদিন আইসিইউতে (ICU) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শেষ পর্যন্ত শুক্রবার রাত ১০টা ৩৪ মিনিটে মৃত্যু হয় সৌম্যদীপের।
শনিবার রাতে গ্রামের বাড়িতে দেহ পৌঁছোতেই শোকে স্তব্ধ পরিবার। বাড়ির সদস্যদের অভিযোগ, বিনা কারণে নির্দোষ একজন মানুষকে গণপ্রহার করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও স্পষ্ট মন্তব্য নেই। তবে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
মৃতের কাকু হরেকৃষ্ণ চন্দ (Harekrishna Chand) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা হাসপাতালে গিয়ে যা দেখেছি, সেটা মর্মান্তিকেরও অতিরিক্ত। ওইভাবে কাউকে মারা যায়? দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি চাই।”
স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। সকলে প্রশ্ন তুলছেন—কোনও তদন্ত না করেই কি এভাবে চোর সন্দেহে মারধর করা যায়? নজর দিচ্ছে না পুলিশ? বারবার গণপ্রহারের ঘটনা বাড়ছে কেন?
পরিবারের দাবি একটাই—সৌম্যদীপের নির্দোষ মৃত্যুর বিচার চাই। এই ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা ও গণপিটুনির বাড়বাড়ন্ত নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।