অভিযোগ, বিবাদের মধ্যেই রঞ্জিতকে বেধড়ক মারধর করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

গ্রাফিক্স - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 10 October 2025 13:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাইকেল নিয়ে ফেরত দেবে না কেন? সেই অশান্তির শুরু। তার জেরে গণপিটুনিতে (mob lynching) মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। ঘটনাটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের (Sonarpur)। মৃতের নাম রঞ্জিত মণ্ডল (৩৫)। ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য (Trinamool panchayat member arrested) নারায়ণ রায়। তা নিয়ে এলাকা জুড়ে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য।
সোনারপুর থানা এলাকার সোনারপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের শীতলা অঞ্চলে এই ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, এক ব্যবসায়ীর সাইকেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বচসা। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত সদস্য নারায়ণ রায়ও।
ঠিক কী ঘটেছিল?
জানা গিয়েছে, সন্তোষ জানা নামে এক ব্যবসায়ীর অভিযোগ ছিল রঞ্জিত একজনের অসুস্থতার কথা বলে, ওষুধ আনতে যাওয়ার জন্য তাঁর সাইকেলটি চান। তিনি দিয়েও দেন। কিছুক্ষণ পরে রঞ্জিত ফিরে এলেও সাইকেলের হদিশ পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয়, সাইকেল নিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকারও করেন তিনি। উল্টে সন্তোষকে গালিগালাজও করেন। তার পরের ঘটনা জানেন না সন্তোষ।
অভিযোগ, বিবাদের মধ্যেই রঞ্জিতকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে সুভাষগ্রাম গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে স্থানান্তরিত করে চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চায়েত সদস্য-সহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্তে নেমে এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে বাকি অভিযুক্তরা এখনও পলাতক। তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। সিপিএম নেতা ও আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “বিধায়কের আশ্রয়েই এলাকায় এই দুঃসাহস।” অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, “আইন নিজের পথে চলবে, কেউ দোষী প্রমাণিত হলে রেয়াত করা হবে না।”
গণপিটুনির এই ঘটনা ফের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।