জলপাইগুড়িতে যেন একের পর এক নাটকীয় অধ্যায়।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 13 January 2026 14:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জলপাইগুড়িতে (Jalpaiguri) যেন একের পর এক নাটকীয় অধ্যায়। রবিবার রাতে বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গল থেকে তিনটি হাতি হানা দিয়েছিল শহর লাগোয়া করলাভ্যালি চা বাগানে। সেই দলের একটি বাচ্চা হাতি সোমবার সকালে চা বাগানের একটি পরিত্যক্ত কুয়োয় পড়ে যায়। প্রায় চার ঘণ্টার টানটান অভিযানে বন দফতরের (Forest Department) কর্মীরা তাকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার সুযোগ মিললেও, তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের শহরে আতঙ্ক ছড়াল দলছুট এক হাতির তাণ্ডবে।
সোমবার রাত পেরিয়ে মঙ্গলবার ভোরের দিকে জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সংলগ্ন এক নম্বর সুভাষনগর কলোনিতে ঢুকে পড়ে হাতিটি। আচমকা আবির্ভাবে এলাকায় হুলস্থুল পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে কয়েকটি বাগান ও পাঁচিল ভেঙে ফেলে সে, তারপর দু’টি বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি চালায়। দেওয়াল ভেঙে, আসবাব তছনছ করে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে হাতিটি।
এই ঘটনায় জখম হন প্রমীলা ওরাওঁ নামে ১৯ বছরের এক গৃহবধূ। ভাঙা দেওয়ালের ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন বলে জানা গিয়েছে। তাঁকে তড়িঘড়ি জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল হলেও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সুভাষনগর কলোনিতে তাণ্ডব চালানোর পর হাতিটি ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক পার করে আরও গভীরে জলপাইগুড়ি শহরের দিকে ঢুকে পড়ে। রাতভর সাইরেন, আতঙ্কিত মানুষের চিৎকার আর পুলিশের টহলে কার্যত থমথমে হয়ে ওঠে গোটা শহর।
বন দফতরের আধিকারিকদের প্রাথমিক অনুমান, করলাভ্যালি চা বাগানে ঢুকে পড়া তিনটি হাতির দলেরই একটি পথ হারিয়ে শহরে ঢুকে পড়েছে। জঙ্গলের সঙ্গে শহরের দূরত্ব কমে আসা, চা বাগান ও বসতি এলাকার লাগোয়া অবস্থান, সব মিলিয়েই এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
এদিকে দলছুট হাতিটিকে নিরাপদে ফের জঙ্গলে পাঠাতে বন দফতর ও পুলিশের যৌথ অভিযান চলছে। শহরবাসীর একটাই প্রার্থনা, আর যেন কোনও প্রাণ না যায় এই দানবীয় আতঙ্কে।