বিদ্যুৎ দফতর জানিয়েছে, গোটা অভিযানের ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়েছে। বাড়ির চারপাশে ছিল সিসিটিভি। তাই আইনানুগ সব নিয়ম মেনে পদক্ষেপ করা হয়েছে

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 4 August 2025 08:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অন্যতম সৈনিক, সেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থারই (ইডি) এক আধিকারিকের বাড়িতে ধরা পড়ল বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা। সরাসরি হুকিং করে এসি, ফ্রিজ, টিভি, পাম্প চালানোর অভিযোগ উঠেছে ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি বর্ধমান শহরের দক্ষিণ দামোদর এলাকার। তদন্তে নেমে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা। বিষয়টি জানাজানি হতেই জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
বিদ্যুৎ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে বিদ্যুৎ চুরির খবর পেয়ে অভিযান চালান সংস্থার আধিকারিকরা। গন্তব্য, এক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্তার দক্ষিণ দামোদরের বাড়ি। গিয়ে তাঁরা দেখেন, মূল তার কেটে সরাসরি সংযোগ নিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে একাধিক বৈদ্যুতিন যন্ত্র। চলছে এসি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, জলের পাম্প। বিদ্যুৎ সংযোগ ওই আধিকারিকের বাবার নামে। অভিযানের সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না, ছিলেন বাবা।
বিদ্যুৎ দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘বাড়ির অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে এক বছরের বিদ্যুৎ বিল হিসেব করে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়।’ তবে অভিযানের পরই পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে শুরু করে। অভিযোগ, ওই আধিকারিক দফতরকে ফোন করে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করেন। পরামর্শ দেন, পুলিশ যেন বাড়িতে না যায়, বরং থানাতেই জানিয়ে দেওয়া হোক বিষয়টি।
তবে বিদ্যুৎ দফতর জানিয়েছে, গোটা অভিযানের ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়েছে। বাড়ির চারপাশে ছিল সিসিটিভি। তাই আইনানুগ সব নিয়ম মেনে পদক্ষেপ করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলার বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার রিজিয়নাল ম্যানেজার গৌতম দত্ত বলেন, ‘আইন সকলের জন্য সমান। পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, নিয়ম মেনেই জরিমানা করা হয়েছে।’
ঘটনা জানাজানি হতেই রাজনৈতিক শিবিরে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি ও তৃণমূল নেতা দেবু টুডুর কটাক্ষ, ‘যাঁদের হাতে দেশের দুর্নীতি আটকানোর ভার, তাঁদেরই পরিবারের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ উঠছে! চুরির পর চাপ সৃষ্টির চেষ্টাও হয়েছিল। এমন তদন্তকারীর হাতে তদন্ত কতটা বিশ্বাসযোগ্য, বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না।’
কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন, ‘তদন্তকারী অফিসাররাই যদি অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন, তা হলে গোটা সিস্টেমটাই তো ভেঙে পড়বে। যে সংস্থায় তিনি কাজ করেন, তাদেরই উচিত পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা।’
বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, ‘কেউ কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরি করেন বলেই তাঁকে ছাড় দেওয়া হবে, এটা হতে পারে না। যিনি আইন রক্ষা করেন, তিনি নিজে যদি নিয়ম ভাঙেন, তা হলে সমাজ কী বার্তা পাবে?’
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত অফিসার গ্রামে আরও একটি বড় বাড়ি তৈরি করছেন। সেখানেও নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করেছেন। যদিও পুরনো বাড়িতেই তিনি ফিরলে থাকেন, একথা তাঁর মা নিশ্চিত করেছেন।