নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে - এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত কোনও বিএলও (Booth Level Officer) বা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের গাফিলতি প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 20 January 2026 15:06
রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই নজরদারি আরও কড়া করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। দিল্লি থেকে আগেই ১২ জন রোল অবজার্ভার (Roll Observer) পাঠানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal)। তাঁদের পাশাপাশি বিশেষ রোল অবজার্ভার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন সুব্রত গুপ্ত। সম্প্রতি আরও চারজন সিনিয়র আইএএস আধিকারিককে এই কাজে নিযুক্ত করেছে কমিশন। তবে এতেই সন্তুষ্ট নয় নির্বাচন সদন। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই দিল্লি থেকে আরও রোল অবজার্ভার পাঠানো হচ্ছে রাজ্যে (West Bengal)।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের কয়েকটি জেলায় এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ম মেনে হচ্ছে না - এমন অভিযোগ উঠে আসার পরই এই সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গকে (North Bengal SIR) ফোকাসে রেখে রাজ্যের অন্তত ১০ থেকে ১২টি জেলা চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ, এই জেলাগুলিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ যথাযথ পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়নি। সেই প্রেক্ষিতেই মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে নতুন করে রোল অবজার্ভার পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্রের দাবি, বুধবারই ওই আধিকারিকরা বাংলায় পৌঁছতে পারেন।

নির্বাচন কমিশনের (ECI) তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে - এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত কোনও বিএলও (Booth Level Officer) বা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের গাফিলতি প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকার মতো সংবেদনশীল কাজে কোনও ভুল বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। পুরো প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছ ও নিয়মমাফিক রাখতে সর্বোচ্চ কঠোরতা দেখানো হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বর্তমানে দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR) চলছে। কিন্তু এসআইআর নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গেই। শুনানির নোটিস পেয়ে মৃত্যুর খবর, সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ, বিএলওদের অসন্তোষ - সব মিলিয়ে বাংলার এসআইআর প্রক্রিয়া জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতেই নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় ধাক্কা এসেছে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশে। শীর্ষ আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র (Logical Discrepancies) সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। শুধু তাই নয়, ওই তালিকা প্রকাশ্যে টাঙিয়ে রাখতে হবে বলেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি, শুনানির সময় কারও কাছ থেকে যদি নথি জমা নেওয়া হয়, তবে তার স্বীকৃতি হিসেবে রসিদ দেওয়াও বাধ্যতামূলক বলে জানানো হয়েছে।
এই নির্দেশে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের দাবি, শুরু থেকেই তারা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি দু’পক্ষই চাপে পড়েছে।
সব মিলিয়ে, এসআইআর ঘিরে রাজ্যে প্রশাসনিক তৎপরতা যেমন বাড়ছে, তেমনই রাজনৈতিক চাপও ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। নতুন রোল অবজার্ভারদের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে, সেদিকেই এখন নজর।