তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতিতে ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার সময়সীমা আরও ৭-১০ দিন বাড়ানো হোক।
.jpeg.webp)
নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 19 January 2026 20:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় এসআইআর-এর (SIR , West Bengal) কাজে ধারাবাহিকভাবে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission, ) দ্বারস্থ হল বঙ্গ বিজেপি (BJP)। সোমবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) সঙ্গে বৈঠকে বিজেপি নেতৃত্বের স্পষ্ট আর্জি, যেভাবে প্রতি ধাপে এসআইআর-এর কাজ ব্যাহত হচ্ছে, তাতে প্রয়োজনে গোটা প্রক্রিয়াই বন্ধ করে দেওয়া হোক।
বৈঠক শেষে বিজেপি নেতা তাপস রায় জানান, “ভোটার তালিকায় একটাও ভুয়ো নাম রাখা যাবে না। একই সঙ্গে কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যেন বাদ না যায়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে কমিশনকে।”
তাঁর দাবি, এসআইআর-এর প্রথম পর্বে রাজ্যে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। অথচ তৃণমূলের তরফে হাতে গোনা মাত্র ৮টি আপত্তি জমা পড়েছে। বিজেপির অভিযোগ, “শতাংশের হিসেবে সেটা নগণ্য। অথচ বাংলাতেই অশান্তি, বাকি রাজ্যগুলিতে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ চলছে।”
তাপস রায়ের আরও দাবি, একাধিক জায়গায় ফর্ম-৭ জমা দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কোথাও বিডিও অফিসে ফর্ম নেওয়া হচ্ছে না, কোথাও দলীয় কর্মীদের ঘেরাও ও হেনস্থার অভিযোগ উঠছে। তাঁর অভিযোগের তির জেলা প্রশাসন ও নির্বাচনী আধিকারিকদের দিকেও। বিজেপি নেতার বক্তব্য, কমিশনের নির্দেশ মানা হচ্ছে না, এমনকী গাফিলতির অভিযোগে যাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেই নির্দেশও কার্যকর হয়নি।

বিজেপির আর এক নেতা প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে কার্যত জঙ্গলরাজ চলছে। কল্যাণী, আসানসোল, হুগলি-সহ বিভিন্ন জায়গায় ফর্ম-৭ জমা নিতে অস্বীকার করা হচ্ছে। কোথাও ঘেরাও, কোথাও শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ উঠছে।” তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতিতে ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার সময়সীমা আরও ৭-১০ দিন বাড়ানো হোক।
এদিকে এসআইআর এর দ্বিতীয় পর্বে লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সিকে (Logical Fiscrepancy Issue) কেন্দ্র করে বাংলায় ক্রমেই চড়ছে উত্তেজনার পারদ। সোমবার এ ব্যাপারে কমিশনকে লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির লিস্ট প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। যার পরে শাসকদল আরও সুর চড়িয়েছে। কমিশন ও বিজেপিকে নিশানা করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, (Abhishek Banerjee) দু'গালে কষিয়ে থাপ্পড় মেরেছে সর্বোচ্চ আদালত। কোর্টে হেরেছে, এবার ভোটে হারাব। শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের মন্তব্য প্রসঙ্গে তাপস রায়ের কটাক্ষ, “রাজনীতির মাঠে লড়াই হয়নি, ক্ষমতার অলিন্দেই বড় হয়েছে, তাই এসব কথা বলছে।”
সব মিলিয়ে এসআইআর ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। কমিশন শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।