এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম না থাকায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পরিবারের সদস্যদের শুনানিতে ডাকা হয়েছে। সাংসদের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে কড়া জবাব দিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর।

কাকলি ঘোষ দস্তিদার
শেষ আপডেট: 28 December 2025 07:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর প্রক্রিয়ার খসড়া তালিকায় নাম নেই (kakoli ghosh dastidar)। ফলে শুনানিতে ডাকা হয়েছে বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের (TMC MP) পরিবারের চার সদস্যকে। নোটিস পাঠানো হয়েছে তাঁর দুই ছেলেকে। এর পাশাপাশি ডাকা হয়েছে সাংসদের ৯০ বছরের বৃদ্ধা মাকে, এমনকি বোনকেও (Kakoli Ghosh Dastidar family SIR hearing)। এই ঘটনায় বেশ কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়েছেন সাংসদ। গোটা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েই অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তবে তাঁর আনা সমস্ত অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর।
সাংসদের অভিযোগ কী ছিল?
শনিবার সকালে সংবাদমাধ্যমের সামনে কাকলি ঘোষ দস্তিদার অভিযোগ করেন যে, গত ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় তাঁর দুই ছেলে, বয়স্ক মা এবং ছোট বোনের নাম নেই। তাঁর দাবি, তাঁর স্বামী (প্রয়াত সুদর্শন ঘোষ দস্তিদার) রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ছিলেন এবং তিনি নিজে ২০০৯ সাল থেকে চারবারের লোকসভা সদস্য। তা সত্ত্বেও তাঁর পরিবারের সদস্যদের এভাবে ডাকা আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর নামে আসলে মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে।"
সাংসদের সাফ কথা, তিনি এই বুথেই ভোট দিয়ে আসছেন বরাবর, তার ছেলেরাও সুপ্রতিষ্ঠিত ডাক্তার, তার পরেও এরকম নির্দেশ কেন বা এসআইআরের খসড়া তালিকায় নাম এল না কেন?
The Claim is misleading.
The Enumeration forms clearly shows that there is no linkage. So they are called for hearing as per relevant provisions of the notification of ECI.#ECI@ECISVEEP @SpokespersonECI @PIBKolkata @AIRKolkata pic.twitter.com/TXIxGHMH0y— CEO West Bengal (@CEOWestBengal) December 27, 2025
তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাল্টা ব্যাখ্যা দিয়ে একটি বিবৃতি জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর। শনিবার বিকেলে তাঁদের অফিশিয়াল ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে জানানো হয় যে, সাংসদের আনা হয়রানির দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর এবং পুরো প্রক্রিয়াটি আইন মেনেই সম্পন্ন হচ্ছে।
কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পরিবারের সদস্যদের ‘আনম্যাপড’ ভোটার হিসেবে শুনানিতে ডাকা হয়েছে, কারণ ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে তাঁদের কোনও ‘সেলফ-ম্যাপিং’ বা ‘প্রজেনি-ম্যাপিং’ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে পশ্চিমবঙ্গে শেষবার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন হয়েছিল এবং এবারের এনিউমারেশন ফর্মে কোনও নির্ভরযোগ্য যোগসূত্র না মেলায় নির্বাচন কমিশনের নিয়ম ও বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সশরীরে শুনানিতে ডাকা বাধ্যতামূলক ছিল।