কমিশন সূত্রের খবর, ২০০২ সালের এই তালিকাকে ভিত্তি করেই রাজ্যে নতুন করে ভোটার যাচাই প্রক্রিয়া চালানো হবে। বিহারে ২০০৩ সালে যে ভাবে এসআইআর হয়েছিল এবং বর্তমানে যেভাবে ওই রাজ্যে পুনরায় ভোটার যাচাই হচ্ছে, প্রায় সেই একই মডেলে পশ্চিমবঙ্গেও কাজ শুরু হচ্ছে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশনের অন্দরের একাংশ।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 28 July 2025 21:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় দুই দশক পর পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) ভোটার তালিকার (Voter List) বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (Special Intensive Revision বা এসআইআর) করার প্রস্তুতি কি পুরোদমে নিচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)? প্রশ্ন আরও একবার উঠল। কারণ সোমবার রাজ্যের ২০০২ সালের ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর (CEO Office)। ইতিমধ্যেই বাংলার ১১টি জেলার শতাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের পুরনো তালিকা আপলোড করা হয়েছে সিইও-র ওয়েবসাইটে।
কমিশন সূত্রের খবর, ২০০২ সালের এই তালিকাকে ভিত্তি করেই রাজ্যে নতুন করে ভোটার যাচাই প্রক্রিয়া চালানো হবে। বিহারে ২০০৩ সালে যে ভাবে এসআইআর হয়েছিল এবং বর্তমানে যেভাবে ওই রাজ্যে পুনরায় ভোটার যাচাই হচ্ছে, প্রায় সেই একই মডেলে পশ্চিমবঙ্গেও কাজ শুরু হচ্ছে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশনের অন্দরের একাংশ। যদিও কমিশনের তরফে এখনই কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোটার তালিকার যাচাইয়ের জন্য মাঠে নামবেন জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও), অতিরিক্ত জেলাশাসক, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার, অতিরিক্ত ইআরও এবং বুথ লেভেল অফিসারেরা (বিএলও)। তাঁরা প্রত্যেক ভোটারের বাড়িতে গিয়ে ফর্ম পূরণ করিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। তার পর নথি যাচাই করে তৈরি হবে সংশোধিত ভোটার তালিকা।
এই প্রক্রিয়ায় কিছু ক্ষেত্রে নথির প্রয়োজনীয়তা কম থাকবে। যেমন, যাঁদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল, তাঁদের অতিরিক্ত কোনও কাগজ দেখাতে হবে না। একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে তাঁদের সন্তানদের ক্ষেত্রেও, যদি অভিভাবকের নাম ওই তালিকায় থেকে থাকে। তবে নতুন ভোটার, অন্য রাজ্য থেকে আসা ব্যক্তি অথবা যাঁদের নাম সেই পুরনো তালিকায় নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে বাড়তি নথি ও আলাদা ফর্ম জমা দিতে হবে। এই যাচাইয়ের মধ্যে থাকবে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্যও।
এবার থেকে এই প্রক্রিয়া অনলাইনেও সম্পন্ন করা যাবে। প্রতিটি বুথে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন বলে কমিশন সূত্রের খবর।
প্রসঙ্গত, বিহারে ইতিমধ্যেই জুন মাস থেকে চলছে এসআইআর প্রক্রিয়া। ১ অগস্ট প্রকাশিত হবে সেই রাজ্যের প্রাথমিক তালিকা। জানা গেছে, সেখানে এখনও পর্যন্ত ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটার নাম বাদ গিয়েছে। বাংলাতেও ঠিক কত পরিমাণ নাম বাদ পড়বে, তা এখনই বলা না গেলেও কমিশনের এই পদক্ষেপ ঘিরে প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে তৎপরতা।