সাধারণত কোনও রাজনৈতিক দলকে এভাবে সরাসরি আক্রমণ করে নির্বাচন কমিশনকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতে দেখা যায় না। কিন্তু ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়া নিয়ে ডেরেক-সাগরিকা-সাকেতদের সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশনের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিল যে, ২০২৬-এর ভোটে বাংলার শাসক দলের সঙ্গে কমিশনের সংঘাত চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 8 April 2026 14:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম ছাঁটাই (West Bengal SIR Final Voter List) নিয়ে বুধবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের (ECI Gyanesh Kumar) দরজায় কড়া নেড়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। কিন্তু ৭ মিনিটের সেই রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে যা ঘটল, তা কল্পনাও করতে পারেনি রাজনৈতিক মহল। একদিকে ডেরেক ও’ব্রায়েনদের দাবি, তাঁদের ‘গেট লস্ট’ বলে ঘাড়ধাক্কা দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। অন্যদিকে, সেই অভিযোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নজিরবিহীনভাবে তৃণমূলকে ট্যাগ করে সরাসরি ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করল কমিশন।
কমিশনের হুঁশিয়ারি: টার্গেট তৃণমূল
বৈঠকের রেশ কাটতে না কাটতেই নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকে হিন্দি ও ইংরেজিতে একটি পোস্ট করা হয়। যার শিরোনাম— “তৃণমূল কংগ্রেসকে নির্বাচন কমিশনের সরাসরি কথা” (Election Commission's Straight-talk to Trinamool Congress)। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় লেখা হয়েছে: “এবার পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হবেই— ভয় মুক্ত, হিংসা মুক্ত, হুমকি মুক্ত, প্রলোভন মুক্ত, ছাপ্পা মুক্ত এবং বুথ ও সোর্স জ্যামিং মুক্ত।”
সাধারণত কোনও রাজনৈতিক দলকে এভাবে সরাসরি আক্রমণ করে নির্বাচন কমিশনকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতে দেখা যায় না। কিন্তু ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়া নিয়ে ডেরেক-সাগরিকা-সাকেতদের সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশনের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিল যে, ২০২৬-এর ভোটে বাংলার শাসক দলের সঙ্গে কমিশনের সংঘাত চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
‘গেট লস্ট’ বনাম ‘ওঁরাই চিৎকার করছিলেন’
এদিন বৈঠক থেকে বেরিয়েই ডেরেক ও’ব্রায়েন বিস্ফোরক দাবি করেন। তিনি বলেন, “৯১ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আমাদের কথা শোনা তো দূর অস্ত, অপমান করে ‘গেট লস্ট’ বলে বের করে দিলেন।”
তবে কমিশন এই অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে। তাঁদের পাল্টা দাবি, “তৃণমূল নেতারাই সৌজন্যের সীমা লঙ্ঘন করেছিলেন। ডেরেক ও’ব্রায়েনরা কমিশনারের সামনে চিৎকার করছিলেন। তাঁদের বারংবার শান্ত হতে বলা হলেও তাঁরা শোনেননি।” এই ‘দুর্ব্যবহার’ এবং ‘অবাধ্যতা’র আবহেই কমিশন ওই কড়া ট্যুইটটি করে বলে মনে করা হচ্ছে।