ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ, মেনকা গুরুস্বামী এবং সাকেত গোখলের চার সদস্যের দল কমিশনে গিয়েছিলেন রাজ্যের ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাতিলের প্রতিবাদ জানাতে। কিন্তু মাত্র সাত মিনিটের সেই রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসেই বিস্ফোরক দাবি করেন ডেরেক ও’ব্রায়েন।

জ্ঞানেশ কুমার এবং ডেরেক ও ব্রায়েন
শেষ আপডেট: 8 April 2026 13:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে ভোটার তালিকা থেকে ৯১ লক্ষ নাম বাদ (West Bengal SIR Final Voter List) পড়া নিয়ে বুধবার দিল্লি তপ্ত হয়ে ওঠে। নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সঙ্গে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের (TMC Delegation ECI) সাক্ষাৎপর্বকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন বিতর্ক। তৃণমূলের অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের অপমান করে দফতর থেকে বের করে দিয়েছেন। অন্যদিকে, কমিশন পাল্টা দাবি করেছে, সৌজন্যের সীমা লঙ্ঘন করেছিলেন তৃণমূলের নেতারাই।
এদিন ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ, মেনকা গুরুস্বামী এবং সাকেত গোখলের চার সদস্যের দল কমিশনে গিয়েছিলেন রাজ্যের ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাতিলের প্রতিবাদ জানাতে। কিন্তু মাত্র সাত মিনিটের সেই রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসেই বিস্ফোরক দাবি করেন ডেরেক ও’ব্রায়েন। তাঁর অভিযোগ, “মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আমাদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি। উল্টে আমাদের অপমান করে ‘গেট লস্ট’ বলে অফিস থেকে বের করে দিয়েছেন।” এমন আচরণ গণতন্ত্রের অপমান বলে সরব হয়েছে ঘাসফুল শিবির।
তবে তৃণমূলের এই অভিযোগ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই আসরে নামে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রের দাবি, ‘গেট লস্ট’ বলার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উল্টে তাঁদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তৃণমূলের প্রতিনিধিরাই কমিশনারের সামনে চিৎকার করছিলেন এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। তাঁদের বারংবার শান্ত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। কমিশনের পাল্টা দাবি, আলোচনার পরিবেশ না রেখে তৃণমূল প্রতিনিধিরাই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন।
ঘটনার রেশ এখানেই থামেনি। এই তপ্ত সাক্ষাৎকারের ঠিক পরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট করে নির্বাচন কমিশন। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়, “এ বার পশ্চিমবঙ্গের ভোট হবে ভয়মুক্ত, হিংসামুক্ত এবং বুথ জ্যাম ছাড়াই।” কমিশনের এই মন্তব্যকে রাজ্যের শাসক দলের প্রতি প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে ভোটার তালিকা নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, তখন ‘বুথ জ্যাম’ মুক্ত ভোটের বার্তা দিয়ে কমিশন আসলে কড়া অবস্থানই স্পষ্ট করল।
चुनाव आयोग की तृणमूल कांग्रेस को दो टूक
पश्चिम बंगाल में इस बार चुनाव:
भय रहित,
हिंसा रहित,
धमकी रहित,
प्रलोभन रहित,
छापा रहित,
बूथ एवं सोर्स जामिंग रहित होकर ही रहेंगे
ECI's Straight-talk to Trinamool Congress
This time, the Elections in West Bengal would surely be :… pic.twitter.com/p5fM8Uu337— Election Commission of India (@ECISVEEP) April 8, 2026
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোটার তালিকার প্রথম দফায় প্রায় ৬৬ লক্ষ নাম বাদ পড়ার পর বাকি থাকা ৬০ লক্ষ নাম বিচারাধীন ছিল। সেই তালিকা বেরোলে দেখা যায়, বিবেচনাধীন থাকা ওই ৬০ লক্ষ মানুষের মধ্যে থেকেও ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনকে ‘অযোগ্য’ তকমা দিয়ে তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলায় ভোটাধিকার হারানো মানুষের সংখ্যা ৯১ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে।
এই বিপুল সংখ্যক নাম বাতিলের যৌক্তিকতা নিয়েই এদিন দিল্লিতে দরবার করতে গিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু সমাধান তো দূরস্ত, বরং ‘গেট লস্ট’ বিতর্ক আর কমিশনের পাল্টা দাবিতে ভোটমুখী বাংলার লড়াই এখন দিল্লির অলিন্দে পৌঁছে গেল।