আইনশৃঙ্খলার অবনতি, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর কিংবা সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও কর্মীদের উপর হুমকি বা হামলার ঘটনা ঘটলেই সঙ্গে সঙ্গে এফআইআর দায়ের করতে হবে, এমনই কড়া নির্দেশ দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়াল।

সিইও মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 23 January 2026 20:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision—SIR) ঘিরে কোনও রকম অশান্তি বা হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলার অবনতি, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর কিংবা সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও কর্মীদের উপর হুমকি বা হামলার ঘটনা ঘটলেই সঙ্গে সঙ্গে এফআইআর দায়ের করতে হবে, এমনই কড়া নির্দেশ দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়াল।
চিঠিতে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (DM & DEO) উদ্দেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের ১৯ জানুয়ারির নির্দেশ অনুযায়ী এসআইআর সংক্রান্ত কাজ চলাকালীন কোনও শুনানি কেন্দ্রে বা সরকারি দফতরে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হলে অবিলম্বে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে হবে। সেই এফআইআর-এর কপি পাঠাতে হবে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার এবং সিইও দফতরে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, যদি হিংসা বা সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা চলতেই থাকে, তবে ওই সংক্রান্ত শুনানি অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি (sine die) রাখতে হবে। পরবর্তী শুনানি শুরু করা যাবে শুধুমাত্র রাজ্যের সিইও-র অনুমোদন সাপেক্ষে।
এখানেই শেষ নয়। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হল, এই ধরনের ঘটনায় এফআইআর দায়ের করতে দেরি হলে তা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রতিকূল সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে কমিশনের তরফে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নির্বাচন কমিশনের জারি করা মেমো অনুসারেই এই নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে।
বস্তুত, ক'দিন আগেই সিইও দফতর জানিয়ে দিয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুরোপুরি রাজ্য সরকারের। মনে করিয়ে দিয়েছিল শীর্ষ আদালতের নির্দেশের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলা হয়েছিল, কোথাও অশান্তি হলে বা তার জেরে শুনানি বন্ধ হয়ে গেলে তার জবাব দিতে হবে রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্তা অর্থাৎ ডিজি রাজীব কুমারকে (DG Rajeev Kumar)।
বস্তুত, ক'দিন আগেই সিইও দফতর জানিয়ে দিয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুরোপুরি রাজ্য সরকারের। মনে করিয়ে দিয়েছিল শীর্ষ আদালতের নির্দেশের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলা হয়েছিল, কোথাও অশান্তি হলে বা তার জেরে শুনানি বন্ধ হয়ে গেলে তার জবাব দিতে হবে রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্তা অর্থাৎ ডিজি রাজীব কুমারকে (DG Rajeev Kumar)।
এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) নামে হয়রানির অভিযোগে রাজ্যের একের পর এক জায়গায় অশান্তির খবর সামনে এসেছে। ফরাক্কা ও চাকুলিয়ার পর উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতেও বিডিও অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে (BDO office vandalized in Sandeshkhali)।
গত ১৪ জানুয়ারি দুপুরে ফরাক্কার বিডিও অফিসে চরম উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। তার কিছুক্ষণ আগেই কয়েক জন বিএলও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সেই সময় দলবল নিয়ে বিডিও অফিসে প্রবেশ করেন তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। অবিলম্বে এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি তোলা হয়। পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে গেলে অফিসের প্লাস্টিকের চেয়ার ও অন্যান্য আসবাব ভাঙচুর করা হয়।
এই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে ফোন করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ভাঙচুরের অভিযোগে সেদিনই পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করে। তবে কমিশনের তরফে বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হলেও সেই সময়সীমা পেরিয়ে প্রায় এক দিন কেটে যায়। তবু এফআইআর দায়ের হয়নি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রশাসনের উদ্দেশে চিঠি দেন বিধায়ক মনিরুল ইসলাম।
তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতি তাঁর পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে এবং তিনি সংবিধানের বিধান মেনেই চলেন। এসআইআর প্রক্রিয়া ভেস্তে দেওয়ার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১৪ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার বিডিও অফিসের সামনে তিনি যা বলেছিলেন, তা ছিল শুধুমাত্র নিজের মতপ্রকাশ।