আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন হেপ্টাথলিট স্বপ্না বর্মনের প্রার্থী পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে এবার সেই সংশয় কাটল। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে স্বপ্না বর্মনকে ভোটে লড়ার জন্য শংসাপত্র দিল নির্বাচন কমিশন।

ভোটে লড়তে আর বাধা রইল না স্বপ্না বর্মনের
শেষ আপডেট: 5 April 2026 22:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেলের চাকরি থেকে ইস্তফা না দিয়েই গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি তৃণমূলে যোগ দেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। তার জেরেই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন হেপ্টাথলিট স্বপ্না বর্মনের প্রার্থী পদ (TMC Candidate Swapna Barman) নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে এবার সেই সংশয় কাটল। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে স্বপ্না বর্মনকে ভোটে লড়ার জন্য শংসাপত্র (Swapna Barman election certificate) দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।
৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জারি হওয়া এই সার্টিফিকেট অনুযায়ী, তিনি ‘জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১’-এর ৯ নম্বর ধারার অধীনে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন (Representation of People Act section 9 India election eligibility)।
কী বলা হয়েছে শংসাপত্রে?
নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, স্বপ্না বর্মন ২০২৬-এর ২ এপ্রিল আবেদন করেন যাতে তিনি এপ্রিল-মে মাসে নির্ধারিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।
তবে নথিতে উল্লেখ রয়েছে, তিনি নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের আলিপুরদুয়ার জংশনে স্টাফ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন এবং ২৭ মার্চ ২০২৬ থেকে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
কেন বরখাস্ত করা হয়েছিল?
তদন্তে উঠে এসেছে, রেল পরিষেবার আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মূল অভিযোগগুলি ছিল -
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়ে বরখাস্ত করা হয়।
তবু কেন মিলল ছাড়পত্র?
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, স্বপ্না বর্মনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা রাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বস্ততার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। এই কারণেই ‘জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১’-এর ধারা ৯ অনুযায়ী, তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এই শংসাপত্রের কপি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই হেপ্টাথলিট ২০১৮ এশিয়ান গেমসে সোনা জেতার পাশাপাশি অর্জুন পুরস্কারেও সম্মানিত হয়েছেন। রেলেও চাকরি পান তিনি। রেলের তরফে অভিযোগ উঠেছিল, চাকরি বজায় রেখেই স্বপ্না বর্মনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় শৃঙ্খলাভঙ্গ হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৯ মার্চ তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। এরপর ১৬ মার্চ স্বপ্না বর্মন ইস্তফা দিলেও, চলতি ডিপার্টমেন্টাল এনকোয়ারির কারণে তা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানায় রেল কর্তৃপক্ষ। তৃণমূলের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃত ভাবে স্বপ্নার ব্যাপারে জটিলতা বাড়িয়েছে রেল।