বিজেপির বিরুদ্ধে আদিবাসী মানুষকে হয়রান করার অভিযোগ করেছেন অভিষেক। তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ভারতের জন্য সোনা জিতেছেন যিনি, তার নমিনেশন আটকানোর চেষ্টা করেছে বিজেপি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং স্বপ্না বর্মন
শেষ আপডেট: 1 April 2026 17:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার রাজগঞ্জের সভা থেকে বিজেপিকে (BJP) সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee। রাজগঞ্জের প্রার্থী স্বপ্না বর্মনকে (Swapna Barman) পাশে নিয়ে তাঁর দাবি, বিজেপি আদিবাসী মানুষকে হয়রান করছে (West Bengal Assembly Election 2026)। আসলে বাংলার মানুষকে বাদ দিয়ে বাইরে থেকে লোক এনে বাংলা দখলের চেষ্টা করছে তারা। তাদের দাবি, মানুষকে প্রচুর স্বপ্ন দেখানেও আজ অবধি একজন মানুষকেও তারা চাকরি দেয়নি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, "বিজেপির পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত সব দু'নম্বরি।" তিনি বলেন, "চোর-চিটিংবাজরা বিজেপি করে। এরা সকাল থেকে রাত অবধি মিথ্যা কথা বলে।" তাঁর অভিযোগ, মানুষকে বিভিন্ন স্বপ্ন দেখিয়েও, কোনও প্রত্যাশা পুরনে ব্যর্থ বিজেপি সরকার। অভিষেক বলেন, শুরুতে পনেরো লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলে তারা। যদিও, কেউ এক টাকাও পায়নি কেউ। এছাড়াও, যুবদের চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিজেপি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আজ অবধি দশজনকেও চাকরি দিতে পারেনি তারা।"
এরপরেই, আদিবাসী মানুষকে হয়রান করার অভিযোগ করেছেন বিজেপির বিরুদ্ধে। তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ভারতের জন্য সোনা জিতেছেন যিনি, তার নমিনেশন আটকানোর চেষ্টা করেছে বিজেপি। তাঁর অভিযোগ, "কেন্দ্রের সরকার এত নিচে নেমেছে যে এক রাজবংশি মেয়ে, যে সদ্য বাবাকে হারিয়েছে, তাঁকে কোর্টে নিয়ে গিয়েছে এনওসি দেওয়ার জন্য।"
তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, "বিজেপিকে কড়ায় গণ্ডায় উচিত শিক্ষা দিতে হবে।" বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অসম, বিহার, ত্রিপুরার মত বহু রাজ্যে বিজেপি সরকার থাকলেও কোথাও তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার করতে পারেনি। তিনি আশ্বাস দেন, স্বপ্না বর্ম নির্বাচনে জেতার এক মাসের মধ্যে রাজগঞ্জে কোল্ড স্টোরেজ এবং ফায়ার স্টেশনের কাজ শুরু হবে। ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অভিষেক।
রেলের চাকরি থেকে ইস্তফা না দিয়েই গত ২৭ ফেব্রুয়ারি স্বপ্না বর্মন তৃণমূলে যোগ দেন বলে অভিযোগ। এর জেরেই তাঁর প্রার্থী পদ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। রেলের তরফে অভিযোগ, চাকরি বজায় রেখেই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় শৃঙ্খলাভঙ্গ হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৯ মার্চ তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। এরপর ১৬ মার্চ স্বপ্না বর্মন ইস্তফা দিলেও, চলতি ডিপার্টমেন্টাল এনকোয়ারির কারণে তা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানায় রেল কর্তৃপক্ষ। তৃণমূলের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃত ভাবে স্বপ্নার ব্যাপারে জটিলতা বাড়ায় রেল। তাদের দাবি, উত্তরবঙ্গের মেয়ের সঙ্গে এরকম ব্যবহার করারও জবাব পাবে বিজেপি।