ভোটার তালিকা আরও নির্ভুল করতে পশ্চিমবঙ্গে চলতি SIR প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় পর্বে ইলেক্টোরাল রোল মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের প্রস্তাবে সম্মতি দিল নির্বাচন কমিশন।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 19 December 2025 14:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকা আরও নির্ভুল ও ত্রুটিমুক্ত করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে চলতি SIR প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় পর্বে ইলেক্টোরাল রোল মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের প্রস্তাবে সম্মতি দিল কমিশন। শুক্রবার এই মর্মে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (CEO) চিঠি পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সংবিধানের ৩২৪(৬) অনুচ্ছেদ এবং ম্যানুয়াল অন ইলেক্টোরাল রোলস (মার্চ ২০২৩)-এর বিধি মেনেই এই সিদ্ধান্ত। মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের ক্ষমতা সরাসরি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের হাতে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত গতকালই সিইও দফতরের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়োগ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে চিঠি দিয়েছে কমিশন। যদিও এ ব্যাপারে রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেন, "কেন্দ্রীয় বাহিনী কবে আসবে সেটা আমি বলতে পারব না, মাইক্রো রোল অবজারভারদের নিয়ে আজকে অর্ডার হয়েছে।"
কারা হবেন মাইক্রো অবজার্ভার?
কেন্দ্রীয় সরকারের Group ‘B’ বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মী মূলতঃ কেন্দ্রীয় PSU(Public Sector Undertaking), Nationalised bank employee দের থেকে এই মাইক্রো রোল অবজার্ভার নিয়োগ করতে হবে বলে সিইওকে চিঠিতে জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একাধিকবার এই শুনানি পর্বের জন্য মাইক্রো রোল অবজার্ভার নিয়োগের দাবি জানিয়েছিলেন, তিনি এটাও দাবি জানিয়েছিলেন যে এই মাইক্রো রোল অবজার্ভার যেন কেন্দ্র সরকারের কর্মিদের থেকে নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে সেই দুটি দাবিই মেনে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কী হবে তাঁদের দায়িত্ব?
ভোটার তালিকা তৈরির প্রতিটি ধাপে নজরদারি—
BLO-দের ডিজিটাইজ করা এনুমারেশন ফর্ম যাচাই
জন্ম ও মৃত্যুর নথির সঙ্গে ভোটার তালিকার তুলনা
দাবি ও আপত্তির ক্ষেত্রে জমা পড়া নথি পরীক্ষা
শুনানি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ
ত্রুটি বা অসঙ্গতি চিহ্নিত করা
পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণে নির্বাচনী অবজার্ভারদের সহায়তা
এছাড়াও CEO বা বিশেষ নির্বাচনী অবজার্ভার যে কোনও অতিরিক্ত কাজ দিতে পারবেন।
জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা (DEO) মাইক্রো অবজার্ভারদের জন্য লজিস্টিক ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন। কাজের সময় তাঁরা শুধুমাত্র ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজেই যুক্ত থাকবেন এবং এই সময় তাঁদের অনুপস্থিতি নিজ নিজ দফতরে ‘অন ডিউটি’ হিসেবেই গণ্য হবে।
পারিশ্রমিক ও সময়কাল
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পর্যন্ত এই মাইক্রো অবজার্ভাররা কাজ করবেন। এই সময়ের জন্য তাঁদের ৩০ হাজার টাকা এককালীন পারিশ্রমিক দেওয়া হবে, যা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের নিজস্ব ক্যাডার থেকেই বহন করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে এটি যে বড় পদক্ষেপ, তা মানছেন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
প্রসঙ্গত এখনও পর্যন্ত সিইও দফতর স্থির করে উঠতে পারেনি মোট কতগুলো জায়গায় শুনানি হবে। মূলত যতগুলো জায়গার যতগুলো রুমে শুনানি হবে, সেই হিসাবে প্রতি রুম পিছু একজন করে মাইক্রো রোল অবজারভার নিয়োগ করতে হবে। সিইও দফতর সূত্রে খবর, শুক্রবারের মধ্যেই এই বিষয়টি তারা স্থির করে ফেলতে পারবে।