৮৫ বছর বা তার ঊর্ধ্বে বয়সের ভোটারদের হয়রানি কমাতে বড় সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের। শুনানির প্রয়োজনে ইআরও-রা বাড়িতে যাবেন, সঙ্গে থাকবেন এআরও ও বিএলও।
.jpeg.webp)
এসআইআর (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 17 December 2025 20:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স্কদের চিন্তা নেই। বাড়িতে বসেই হবে শুনানি, সাহায্য করবেন AERO-রা। বুধবার জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, ৮৫ বছর বা তার ঊর্ধ্বে যাঁদের বয়স, তাঁরা যদি শুনানির আওতায় পড়েন, সে ক্ষেত্রে তাঁদের আর শুনানির জন্য দফতরে যেতে হবে না। সংশ্লিষ্ট ইআরও (ERO) নিজেই তাঁদের বাড়িতে গিয়ে শুনানি করবেন। সঙ্গে থাকবেন সহকারী নির্বাচন আধিকারিক (AERO) এবং ওই বুথ লেভেল অফিসার (BLO)।
প্রবীণ ভোটারদের যাতে কোনওভাবেই হয়রানির মুখে পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত।
এদিকে, এসআইআর-এর খসড়া তালিকায় একাধিক ভুল ধরা পড়ায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিএলও-দের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিস জারি করা হয়েছে। দার্জিলিং–শিলিগুড়ি এলাকায় একজন বিএলও-কে শোকজ করা হয়েছে। পাশাপাশি হুগলির চণ্ডীতলা (Chanditala), মাটিগাড়া–নকশালবাড়ি (Matigara-Naxalbari) এবং কোচবিহার দক্ষিণ (Cooch Behar South) বিধানসভার মোট তিনজন বিএলও-কেও শোকজ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই কেন্দ্রগুলির সংশ্লিষ্ট ইআরও-দের কাছ থেকেও বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।
ডানকুনি (Dankuni) পুরসভার এক কাউন্সিলরের নাম খসড়া তালিকায় মৃত দেখানোর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিএলও-কে শোকজ করেছে কমিশন। জানানো হয়েছে, এই সংক্রান্ত নথি ইতিমধ্যেই হাতে এসেছে। পাশাপাশি যিনি ওই এলাকায় বিডিও (BDO) হিসেবে কাজ করছেন এবং একই সঙ্গে এইআরও (AERO)-র দায়িত্বে ছিলেন, তাঁকেও শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আপডেট ওই কপির সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
শিলিগুড়িতে মৃত ভোটার সংক্রান্ত ভুল তালিকাভুক্তির ঘটনায়ও বিএলও-কে শোকজ করা হয়েছে। একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কোচবিহার দক্ষিণের ক্ষেত্রেও। কমিশনের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই দুটি ক্ষেত্রেই বিএলও-রা ইচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্বে গাফিলতি করেছেন। যদিও কমিশন স্পষ্ট করেছে, বিএলও-দের ভুলের কারণে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের ফর্ম ৬ (Form 6) পূরণ করতেই হবে।
এর মধ্যেই আরও বড় পদক্ষেপ। সূত্রের খবর, বেলেঘাটা (Beleghata) বিধানসভার মোট সাতটি বুথের বিএলও-কে শোকজ নোটিস ধরিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না দিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন, বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা ও নথি যাচাইয়ের কাজে একাধিক অনিয়ম হয়েছে। কোথাও ফর্ম জমা পড়লেও তথ্য আপডেট হয়নি, কোথাও ঠিকানা বা নম্বর সংশোধনের আবেদন ফেলে রাখা হয়েছে, আবার কয়েকটি বুথে নিয়মিত পরিদর্শনই হয়নি।
নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোটের আগে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ভোটার সংযোজন, নাম বিয়োগ বা সংশোধন— প্রতিটি ধাপেই দায়িত্বে অবহেলা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই গাফিলতি প্রমাণিত হলে সাসপেনশন থেকে দায়িত্ব প্রত্যাহার— সব ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। জেলা নির্বাচন দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, “ভোটের কাজে কোনও আলস্য চলবে না। অভিযোগ পেলেই কড়া ব্যবস্থা।”