মালদহের কালিয়াচকে মেলা থেকে পাপড় বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলেন এক প্রৌঢ়। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা পথ আটকে লুটপাটের পর গুলি করে খুন করে।
.jpeg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 26 November 2025 11:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের গুলি চলল মালদহে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দু’টি গুলিচালনার ঘটনায় তোলপাড় এলাকা। মঙ্গলবার সকালে যেখানে এক তৃণমূল কর্মীর গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার হয়েছিল, রাত নামতে আরও এক খুন। নিহত আজহার আলি, পেশায় পাপড় বিক্রেতা। কালিয়াচক থানার কাশিমনগর এলাকায় তাঁকে গুলি করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
পঞ্চান্ন বছর বয়সি আজহার আলির বাড়ি ফতেখানি এলাকায়। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে একটি মেলায় (fair) পাপড় বিক্রি করে সাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা (miscreants) তাঁর পথ আটকায়। কাছ থেকে গুলি (firearm attack) চালানো হয়। মাথায় গুলি লাগে, বাঁদিকের অংশে ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট। স্থানীয়রা জানান, গুলি লাগার পর রাস্তায় পড়েছিলেন আজহার। খবর পেয়ে পড়শিরা যান। তাঁরা প্রথমে তাঁকে সুজাপুর গ্রামীণ হাসপাতালে (rural hospital) নিয়ে যান। সেখান থেকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজে রেফার (referred) করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি।
প্রতিবেশীদের দাবি, কারও সঙ্গে কোনও বিবাদ ছিল না আজহারের। চেনা লোকেরা বলছেন, শান্ত স্বভাবের মানুষ, শত্রুতা থাকারও কথা নয়। মেলা-মেলায় ঘুরে পাপড় বিক্রি করতেন, তা দিয়েই সংসার চলত। তাঁদের সন্দেহ, চুরি বা ডাকাতির (robbery) উদ্দেশ্যেই দুষ্কৃতীরা পথ আটকেছিল। টাকা-পয়সা বা বিক্রির মাল নিয়ে নেওয়ার পর গুলি করে খুন করা হয়েছে।
আজহার আলির এক প্রতিবেশী বলেন, “রাতে ফোনে খবর পাই। গিয়ে দেখি মাথার বাঁদিকে ফুটো হয়ে গিয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে গেলেও কিছু করার ছিল না।” তাঁদের দাবি, এলাকাজুড়ে টহলদারি (patrolling) বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে মেলা-পরবর্তী সময়ে গ্রামীণ রাস্তাগুলিতে নজরদারি বাড়াতে হবে প্রশাসনকেই।
এদিকে ওইদিনই অর্থাৎ মঙ্গলবার সকালে ইংরেজবাজার থানার কাটাগর এলাকার একটি আমবাগান থেকে উদ্ধার হয় এক তৃণমূল কর্মীর (TMC worker) গুলিবিদ্ধ দেহ। ভোটের আগে জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সাধারণ মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, একসময়ে কালিয়াচক এলাকায় দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য (crime dominance) ছিল। পরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও সম্প্রতি ফের বেড়েছে।
পুলিশ অবশ্য ঘটনার তদন্ত (investigation) শুরু করেছে। দুষ্কৃতী কারা, কেন এই হামলা, সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।