তাঁকে দ্রুত এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশ ও বিডিও অফিসের কর্মীদের সহযোগিতায় তাঁকে তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 4 January 2026 16:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার জন্য অসুস্থ অবস্থাতেই গেছিলেন ৭২ বছরের বৃদ্ধ ভরত চন্দ্র সামন্ত। কিন্তু সেখানে গিয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন, পড়ে গিয়ে মাথাও ফেটে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে তারকেশ্বরের বিডিও অফিসের শুনানি কেন্দ্রের সামনে।
২০০২ সালের ভোটার লিস্টে নাম নেই, তাই তারকেশ্বর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ভরত সামন্ত ও তাঁর স্ত্রী চিত্রলেখা সামন্তকে শুনানির জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছিল। অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও নির্দিষ্ট দিনে হাজিরা দিতে সকালে টোটো ভাড়া করে বিডিও অফিসে আসেন এই দম্পতি।
কিন্তু অফিসের সামনে নেমেই ঘটে বিপত্তি। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, টোটো থেকে নামতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যান ভরত সামন্ত। তাঁর মাথা ফেটে যায়, শুরু হয় রক্তক্ষরণ। মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শুনানি কেন্দ্রে উপস্থিত অন্যান্য মানুষের মধ্যেও।
দুর্ঘটনার পর শুনানিতে আসা কিছু মানুষ তাঁকে দ্রুত পাশের এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরে পুলিশ ও বিডিও অফিসের কর্মীদের সহযোগিতায় তাঁকে তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন, অসুস্থ ও বয়স্কদের জন্য নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে, তবুও কেন এমন মানুষদের বারবার শুনানির জন্য অফিসে আসতে হয়?
এই ঘটনার প্রতিবাদে বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু স্থানীয় কর্মী। তাঁদের অভিযোগ, অসুস্থ-বয়স্কদের বাড়িতে গিয়ে শুনানির কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।
এরপরই শুনানি কেন্দ্রে মাইকিং করা হয়। জানানো হয়, অসুস্থ ব্যক্তিরা আগে থেকে জানিয়ে রাখলে তাঁদের বাড়িতে গিয়েই শুনানি করা হবে।
৮৫ বছরের ঊর্ধ্বের নাগরিক, বিশেষভাবে সক্ষম, যে কোনও বয়সের অসুস্থ ব্যক্তি এবং অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের ক্ষেত্রে শুনানির নোটিস (Hearing Notice) নিয়ে বাড়িতে গিয়েই যাচাই করা হবে - গত সোমবার এই নির্দেশিকা জারি করেছে সিইও দফতর (CEO Office)।
সিইও দফতর থেকে নির্দেশিকা জারি হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee)। বলেছেন, শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা গঠনমূলকভাবে তুলে ধরেছে তৃণমূল (TMC)। আর সিইও-র কাছে বিষয়টি তোলার পরেই কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) সঙ্গে দেখা করেও বয়স্কদের হিয়ারিং বাড়ি বাড়ি গিয়ে করার দাবি জানিয়েছিলেন অভিষেক। কমিশন এনিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছিল।