নথিপত্র জোগাড় করা এবং শুনানিতে হাজিরা দেওয়া নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন পুটু। স্থানীয়দের দাবি, নোটিসে বৃদ্ধের নামের বানানও ভুল ছিল। ‘পুটু’-র বদলে লেখা হয়েছিল ‘পুট’। সেই ভুল নিয়েও মানসিক অস্থিরতায় ছিলেন তিনি।
.jpeg.webp)
ছবি-এআই।
শেষ আপডেট: 15 January 2026 20:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদে (Murshidabad) ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে হয়রানির অভিযোগের তালিকায় এ বার যুক্ত হল মৃত্যুর ঘটনা (Heart Attack)। শুনানির জন্য নোটিস পাওয়ার দিনই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। মৃতের নাম পুটু শেখ। ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের শামসেরগঞ্জ থানার রামেশ্বরপুর চাচণ্ড গ্রামে। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর-এর ‘চাপ’ ও মানসিক দুশ্চিন্তার জেরেই মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধের।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি পুটু শেখ, তাঁর পুত্র ও পুত্রবধূর নামে এসআইআর-এর শুনানির নোটিস আসে। নথিপত্র জোগাড় করা এবং শুনানিতে হাজিরা দেওয়া নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন পুটু। স্থানীয়দের দাবি, নোটিসে বৃদ্ধের নামের বানানও ভুল ছিল। ‘পুটু’-র বদলে লেখা হয়েছিল ‘পুট’। সেই ভুল নিয়েও মানসিক অস্থিরতায় ছিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবারই পুটু শেখের পরিবারের সদস্যদের শমসেরগঞ্জের বিডিও অফিসে শুনানির জন্য হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। সেই সময় বাড়িতে একাই ছিলেন বৃদ্ধ। পরিবারের সদস্যেরা শুনানিতে থাকাকালীনই খবর আসে, বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন পুটু। তড়িঘড়ি তাঁরা রওনা দিলেও বাড়ি ফিরতে ফিরতেই মৃত্যুসংবাদ পৌঁছে যায়।
বিডিও অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে কান্নাভেজা গলায় মৃতের পুত্রবধূ বিউটি খাতুন বলেন, “এসআইআর-এর চাপে মারা গেল। আমরা নথি জমা দিতে এসেছিলাম। এসে শুনলাম শাশুড়ি আর নেই।”
উল্লেখ্য, এর আগেও মুর্শিদাবাদের কান্দিতে এসআইআর-এর শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন ৮১ বছরের প্রবীণা যুগলদাসী কাপাসিয়া। তাঁকে ভর্তি করানো হয় কান্দি মহকুমা হাসপাতালে। একের পর এক এমন ঘটনায় ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষের উপর মানসিক চাপ বাড়ছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।