"আমার বয়স এখন ৬৫ বছর। এখন কি আমার ওই স্কুলে গিয়ে আমার শংসাপত্র পাব? স্কুলের প্রধান শিক্ষকও আর বেঁচে নেই। জানি না কী হবে এখন।"

শেষ আপডেট: 3 January 2026 14:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: SIR এর শুনানিতে ছাড় পেলেন না শিল্পীও। টানা ভোট দিলেও ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় শুক্রবার বর্ধমানের জেলাশাসকের দফতরে শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয় শিল্পী দিলীপ মৈত্রকে।
দিদি তিথি সান্যাল তাঁকে নিয়ে এসেছিলেন শুনানি কেন্দ্রে। বর্ধমান পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের রাজগঞ্জ এলাকায় তাঁদের বাড়ি। দিলীপ ও তিথির পিসি বর্ধমান মেডিকেল কলেজে চাকরি করতেন। তাঁরা ১৩ ভাইবোন ছিলেন। তাঁদের আদি বাড়ি অসমের নওগাঁওতে। পিসি নিঃসন্তান হওয়ায় দিলীপবাবুর এই দিদিকে দত্তক নিয়েছিলেন। ২০ বছর আগে পিসি মারা যাওয়ার পর দিলীপকে বর্ধমানে নিয়ে আসেন দিদি তিথি। সেই থেকে বর্ধমান শহরের রাজগঞ্জেই বাস করছেন দিলীপ।
এক সময়ে টলিউড থেকে বলিউডে অবাধ বিচরণ ছিল দিলীপ মৈত্রের। তিনি সিনেমার পোস্টার আঁকতেন। অমিতাভ থেকে রাজেশ খান্না থেকে উত্তরকুমার থেকে সুচিত্রা সেন থেকে হেমা মালিনী কার না সিনেমার পোস্টার এঁকেছেন। তবে অনেক দিন আর কাজ নেই। এবার কি নাগরিকত্ব হারাবেন! এই প্রশ্নটাই কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে তাঁকে। কারণ শুক্রবার জেলাশাসকের দফতরে শুনানি কক্ষে দিলীপবাবু অসমের নওগাঁর প্রাথমিক স্কুলের নথির ফোটোকপি জমা দেন। কিন্তু আধিকারিকরা তা মানতে চাননি। তারা তাঁকে আসল কপি আনতে বলেন। সেই আসল কপি দেওয়া সম্ভব নয় তাঁর পক্ষে। সেই কারণে চিন্তায় শিল্পী। তিনি বলেন, "আমার বয়স এখন ৬৫ বছর। এখন কি আমার ওই স্কুলে গিয়ে আমার শংসাপত্র পাব? স্কুলের প্রধান শিক্ষকও আর বেঁচে নেই। জানি না কী হবে এখন।"
জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন, "সাধারণ মানুষ চূড়ান্ত নাকাল হচ্ছে। আমরা প্রথম থেকেই এই নিয়ে সরব হয়েছি। কিন্তু কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন বিজেপির কথামত চলছে।" তবে বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, "তৃণমূল কংগ্রেস এসআইআর নিয়ে শঙ্কিত। তাই যেনতেন প্রকারে তৃণমূল চাইছে এসআইআর বানচাল হোক।" বর্ধমান দক্ষিণের মহকুমা শাসক রাজর্ষি নাথের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।