পাইকারি বাজারে যেখানে ডিম মিলছে ৬.৮০ থেকে ৭ টাকায়, সেখানে খুচরো দামে এত ব্যবধান নিয়ে ক্রেতাদের ক্ষোভ বাড়ছেই।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 6 December 2025 13:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে ডিমের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কিন্তু বাজারে সেই বাড়তি সরবরাহের লেশমাত্র প্রভাব নেই। খুচরো বাজারে ডিমের দাম টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে ‘আগুন’-ঝড়—প্রতি ডিম ৮ টাকা কিংবা তারও বেশি (Egg production 'record', yet rising prices)! পাইকারি বাজারে যেখানে ডিম মিলছে ৬.৮০ থেকে ৭ টাকায়, সেখানে খুচরো দামে এত ব্যবধান নিয়ে ক্রেতাদের ক্ষোভ বাড়ছেই।
ঠিক এমন পরিস্থিতিতেই শহরের বড়বাজার-সহ বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালাল টাস্ক ফোর্স (market raids task force)। অতিরিক্ত দাম নেওয়া হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সদস্যরা। সরেজমিনে দোকান ঘুরে বিক্রেতাদের থেকে মূল্য তালিকা খতিয়ে দেখেন তাঁরা।
কেন দাম কমছে না?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই প্রশাসন ইতিমধ্যে জেলাভিত্তিক বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে। শীত পড়লেই চাহিদা বাড়ে, দামও খানিক ওঠানামা করে—কিন্তু এ বছরের উল্লম্ফন সেই স্বাভাবিকতার বাইরে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ। উৎপাদন বেড়েছে, তবু দাম এত উচ্চ—একে ‘অস্বাভাবিক’ বলেই দেখছেন তাঁরা।
প্রাণী সম্পদ দফতরও নেমেছে খতিয়ে দেখার কাজে। কোন জেলায় কত উৎপাদন, কোন বাজারে কত দামে বিক্রি হচ্ছে, ফিডের ব্যয় কতটা বেড়েছে—সব হিসেব পাঠানো হবে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে।
প্রশাসনের মতে, সমস্যা শুধু উৎপাদন খরচে নয়—বরং সন্দেহ বাড়াচ্ছে পাইকারি ও খুচরো দামের বিপুল ফারাক। বাজারে ইচ্ছাকৃত ভাবে জোগান আটকে রেখে দামের গতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নজরদারি ইতিমধ্যেই বাড়িয়েছে নবান্ন।
অন্য দিকে খামারিদের দাবি, দামের অস্থিরতার নেপথ্যে সবচেয়ে বড় দায় ফিডের আকাশছোঁয়া দাম। ভুট্টা, সয়াবিন মিল, মাছি-ভুসি—মুরগির খাবারের সব উপাদানের দাম গত কয়েক মাসে বিপুল বেড়েছে। উৎপাদন খরচ অন্তত ২০–৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেই দাবি তাঁদের। ফলে উৎপাদন বাড়লেও খরচের চাপ বাজারদরে কার্যত ‘আগুন’ ধরাচ্ছে।
চাহিদার মরসুম, বাড়তি উৎপাদন, তবু অদমনীয় দাম—ডিমের বাজারে এই অস্বাভাবিকতা কাটাতে কতটা সফল হয় প্রশাসনের কড়া নজরদারি, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।