ইডেন রিয়েলটির ৫,০০০ কোটির নদী তীরবর্তী প্রকল্প ‘ইডেন দেবপ্রয়াগ’ কলকাতার আবাসন বাজারে নতুন দিশা আনতে চলেছে। গঙ্গার ধারে বিলাসবহুল টাউনশিপে থাকবে হোটেল, ক্লাব, ল্যান্ডস্কেপড পোডিয়াম-সহ একাধিক সুবিধা।
.jpeg.webp)
ইডেন রিয়েলিটির প্রজেক্ট উদ্বোধনে
শেষ আপডেট: 17 February 2026 18:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার নদীঘাটে বড়সড় পরিবর্তনের রূপরেখা ঘোষণা করল ইডেন রিয়েলটি গ্রুপ (Eden Realty Group)। মঙ্গলবার শহরে উদ্বোধন হল তাদের প্রথম প্রিমিয়াম রিভার-ক্রাফ্টেড লাক্সারি প্রজেক্ট ‘ইডেন দেবপ্রয়াগ (Eden Devprayag)’। নদীঘাটকে কেন্দ্র করে হাউজিং, রিটেল এবং কমার্শিয়াল, মোট পাঁচ হাজার কোটি টাকার বহুমুখী বিনিয়োগ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আর্য সুমন্ত (Arya Sumant) বললেন, ‘‘নদীকেন্দ্রিক প্রিমিয়াম ডেভেলপমেন্টে আমরা ৫,০০০ কোটি বিনিয়োগ করব। লাক্সারি রেসিডেনশিয়াল টাওয়ার, বাংলো বা রো-হাউস, পাঁচতারা হসপিটালিটি প্রজেক্ট থেকে শুরু করে কমার্শিয়াল বিল্ডিং—সবই থাকছে এই পরিকল্পনায়। প্রথম ধাপই হচ্ছে ইডেন দেবপ্রয়াগ, যা হতে চলেছে কলকাতার সবচেয়ে বিলাসবহুল রিভারফ্রন্ট টাউনশিপ। এখানেই আসছে শহরের প্রথম নদীকেন্দ্রিক পাঁচতারা হোটেল, যেখানে থাকবে বিশেষ ‘গঙ্গা ঘাট (Ganga Ghat)’।’’
তিনি জানান, নদীঘাটের পাশাপাশি এ বছরই আরও দু’টি প্রকল্প আসছে—কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে একটি G+18 ম্যাস হাউজিং প্রজেক্ট এবং দক্ষিণ কলকাতায় একটি বাংলো ডেভেলপমেন্ট। নদীর পর্যটন ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বাড়াতে প্রশাসনের সঙ্গে কথাবার্তাও চলছে।

প্রকল্পের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে যৌথ ম্যানেজিং ডিরেক্টর কুমার সাত্যকি (Kumar Satyaki) বলেন, ‘প্রথম দিন গঙ্গা আর বোটানিক্যাল গার্ডেনের দিকে তাকিয়ে আমাদের মনে হয়েছিল—এ জায়গাকে স্রেফ আর পাঁচটা প্রজেক্টের মতো করা যাবে না, এটাকে একরকম শ্রদ্ধার্ঘ্য (Tribute) বানাতে হবে।’
তাঁর দাবি, কলকাতায় এটাই একমাত্র আবাসন প্রকল্প যেখানে দক্ষিণমুখী গঙ্গা। প্রায় ১.৮৫ লাখ বর্গফুট নদী-অনুপ্রাণিত ল্যান্ডস্কেপড পোডিয়াম, ৭৫,০০০ বর্গফুট ম্যানেজড পোডিয়াম ক্লাব, আর ছাদের ওপরে ইনফিনিটি পুল—সব মিলিয়ে প্রিমিয়াম লাইফস্টাইলের অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্য। ছাদ থেকে ২৭০ ডিগ্রি শহর ও নদীর দৃশ্য দেখা যাবে। ডাবল ও কোয়াড-হাইট টেরেসে ‘স্পেশিয়াল লাক্সারি’-র অভিজ্ঞতা, আর স্তরজুড়ে সবুজায়ন পরিবেশ ঠান্ডা ও নির্মল রাখতে সাহায্য করবে। প্রকল্পটি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল থেকে মাত্র ১২ মিনিট দূরে।
প্রকল্পের নকশা সম্পর্কে প্রিন্সিপাল আর্কিটেক্ট মলয় ঘোষ (Malay Ghosh) বলেন, ‘টাওয়ারগুলোকে আর্ক ফরমেশনে সাজানো হয়েছে, যাতে সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দুটোই এক টেরেস থেকে দেখা যায়। ক্লাইমেট-রেসপন্সিভ ফিনস ফ্যাসাডকে নদীর ঢেউয়ের মতো চেহারা দেয় এবং ঘরে ঠান্ডা গঙ্গার হাওয়া ঢোকার পথ আরও বাড়ায়।’ বাড়ির মধ্যে বেশি আলো, ক্রস ভেন্টিলেশন এবং লাইটওয়েট ওয়ালের ফলে ইন্টিরিয়র নিজের মতো করে সাজানো যাবে।

প্রকল্পের ৪.৫ একর ল্যান্ডস্কেপড পোডিয়াম সম্পর্কে ল্যান্ডস্কেপ আর্কিটেক্ট দৈপায়ন ভট্টাচার্য (Dwaipayan Bhattacharya) বলেন, ‘গঙ্গার এপার থেকে কলকাতাকে দেখা—ওটাই আমাদের কল্পনাকে বদলে দিয়েছিল। পুরো ল্যান্ডস্কেপটাই নদীর জন্ম আর গতিপথকে মাথায় রেখে তৈরি।’ কেন্দ্রে রয়েছে ‘ওয়াটার স্পাইন’, যেখানে থাকবে ক্যাসকেডিং ওয়াটারফল, রিফ্লেক্টিভ পুল, শান্ত নালা—সব মিলিয়ে গঙ্গার প্রতীকী প্রবাহ। পাইন-জাতীয় গাছপালা, মেডো লন আর ঢেউ খেলানো পথ তৈরি করবে এক ধরনের ‘হিমালয়-অনুপ্রাণিত’ সবুজ পরিবেশ। সুইমিং পুল হবে পুরো ল্যান্ডস্কেপের মূল জলের উৎস।
গ্রুপের ডিরেক্টর-মার্কেটিং বিশ্বদীপ গুপ্ত (Biswadeep Gupta)-র দাবি, ‘ইডেন দেবপ্রয়াগ তৈরি হয়েছে ‘Simply Serene, Simply Connected and Simply Better’ ধারণাকে সামনে রেখে। জলের ছোঁয়া, প্রবাহমান স্থাপত্য আর কমিউনিটি-ভিত্তিক স্পেস—সব মিলিয়ে এটা কেবল একটি বাড়ি নয়, বরং এক ‘Simply Happier’ জীবনযাত্রা।’
২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই রিয়েল এস্টেট গ্রুপ ইতিমধ্যেই ৭.১ মিলিয়ন বর্গফুট নির্মাণ শেষ করেছে, ৬.৫ মিলিয়ন বর্গফুট কাজ চলছে এবং ৭,৮০০-র বেশি পরিবার আজ এদের কমিউনিটির অংশ। সংস্থার দর্শন—হ্যাপিনেস ইজ দ্য ট্রু মেজার অব সাকসেস।