গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের একাধিক জায়গায় হানা দেয় ইডি (ED)। তদন্তকারীদের একটি দল পৌঁছে যায় তৎকালীন বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতেও। দীর্ঘ ৭ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তল্লাশি চলে।

মনোরঞ্জন মণ্ডলকে দ্বিতীয়বার তলব
শেষ আপডেট: 13 February 2026 15:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়লা পাচার মামলায় (Coal Smugglig Case) এসআই মনোরঞ্জন মণ্ডলকে তলব করল ইডি (ED summon Manoranjan Mondal)। এনিয়ে দ্বিতীয়বার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হল। আজই সিজিও কমপ্লেক্সে (CGO Complex) হাজিরা দেওয়ার জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে তাঁকে। এর আগেও তাঁকে তলব করা হলে হাজিরা এড়িয়ে যান মনোরঞ্জন। যদিও তার কারণ স্পষ্ট ছিল না।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের একাধিক জায়গায় হানা দেয় ইডি (ED)। তদন্তকারীদের একটি দল পৌঁছে যায় তৎকালীন বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতেও। দীর্ঘ ৭ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তল্লাশি চলে।
ইডি সূত্রে খবর, কয়লা পাচার মামলায় যে প্রোটেকশন মানির (Protection Money) লেনদেন হয়েছিল তার সঙ্গে যোগ রয়েছে মনোরঞ্জন মণ্ডলের। অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের টাকা পাচার করতে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছিলেন তিনিও। এদিন দুর্গাপুরের বাড়িতেই ছিলেন মনোরঞ্জন মণ্ডল। তল্লাশির পাশাপাশি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও খবর।
এরপরই তাঁকে ডেকে পাঠায় ইডি (ED)। গত সোমবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল মনোরঞ্জন মণ্ডলের। কিন্তু ওইদিন তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান।
তল্লাশিতে ইডির হাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি এসেছে। যেখানে দেখা গেছে, কয়লা ব্যবসায়ীর সঙ্গে অন্তত ১ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে মনোরঞ্জন মণ্ডল। এছাড়াও তাঁদের হোয়াটস অ্যাপ চ্যাটও উদ্ধার করেছে তদন্তকারীরা।
ইডি অভিযানের দু-তিনদিন আগেই মনোরঞ্জন মণ্ডলকে বুদবুদ থানার ওসি (Budbud PS OC) পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিছুদিনের মধ্যেই চার্জ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তারপরই তাঁকে ওসি পদ থেকে সরিয়ে স্পেশাল ব্রাঞ্চে বদলি করা হয়। শুক্রবার মনোরঞ্জন মণ্ডল হাজিরা না দিলে কড়া পদক্ষেপের পথে যেতে পারে ইডি।
দুর্নীতিকে কেন্দ্র করেই এই মনোরঞ্জন মণ্ডলের এক চাঞ্চল্যকর অতীতও রয়েছে। ২০২৪ সালেই তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়টি হল, কয়লা পাচার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কড়া বার্তার পরই এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল।
কী বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী?
২০২৪-এ নবান্নের এক বৈঠকে কয়লা পাচার মামলার তদন্ত নিয়ে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, 'কয়লা পাচার নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়। অথচ সিআইএসএফ এবং পুলিশের একাংশ টাকা খেয়ে কয়লা পাচারে মদত দিচ্ছে।' তিনি কড়া ভাষায় বলেছিলেন, 'আমি এটা বরদাস্ত করব না।' এরপরই বারাবনি থানার তৎকালীন ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হয়েছিল।