প্রায় বেলা ১১টার পর শুরু হওয়া এই অভিযান শেষ করে প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে দুপুর দুটো পঁয়তাল্লিশ নাগাদ বেরিয়ে যান ইডি আধিকারিকরা। একটি গাড়িতে ইডি অফিসাররা এবং অন্য একটি গাড়িতে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।

প্রতীক জৈন
শেষ আপডেট: 8 January 2026 15:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চরম উত্তেজনা কলকাতাজুড়ে। রাজ্য-রাজনীতিতেও তোলপাড় পড়েছিল আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Ipac Prateek Jain) বাড়িতে ইডি অভিযানে। কয়লা পাচার কাণ্ডের (Coal Smuggle Case) তদন্তে সেই অভিযান হয় বলে জানা গেছে। এর খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে পৌঁছন পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা এবং স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এরপরে সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসেও যান তাঁরা কারণ সেখানেও চলছিল অভিযান।
প্রায় বেলা ১১টার পর শুরু হওয়া এই অভিযান শেষ করে প্রতীক জৈনের (Prateek Jain) বাড়ি থেকে দুপুর দুটো পঁয়তাল্লিশ নাগাদ বেরিয়ে যান ইডি আধিকারিকরা। একটি গাড়িতে ইডি অফিসাররা এবং অন্য একটি গাড়িতে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। ইডি অফিসারেরা বেরিয়ে যাওয়ার পর বাড়ি থেকে বের হন প্রতীক জৈনও। কালো কাচে ঢাকা গাড়ির ভিতর পর্দা লাগানো ছিল। বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে (West Bengal Election) পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অভাবনীয় উত্থানের পর তৃণমূল কংগ্রেসের কৌশলগত কাজে যুক্ত হন প্রশান্ত কিশোর (PK)। তাঁর সংস্থা আইপ্যাক (ipac kolkata office) পরবর্তী দু’বছর রাজ্যে সক্রিয় ভাবে কাজ করে (ipac west bengal)। এর ফল দেখা যায় ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২১৩টি আসনে জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টানা তৃতীয় বার মুখ্যমন্ত্রী হন (Mamata Banerjee)। এই জয়ের পিছনে আইপ্যাকের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিধানসভা ভোট শেষ হওয়ার পর প্রশান্ত কিশোর নিজে ভোটকুশলীর ভূমিকা থেকে সরে দাঁড়ান। যদিও ২০২২ সালে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের ইতি ঘটে, আইপ্যাকের সঙ্গে দলের যোগাযোগ কিন্তু ভাঙেনি। এখনও শাসক দল ও রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করে চলেছে ওই সংস্থা। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের পাশে ছিল আইপ্যাক (pratik jain ipac)। সেই ভোটে রাজ্যে বিজেপিকে অনেকটাই পেছনে ফেলে ২৯টি আসনে জয় ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। এই আইপ্যাকেরই কর্ণধার প্রতীক জৈন (pratik jain)।
এদিকে তাঁর বাড়িতে ইডি হানা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে (Amit Shah) কটাক্ষ করে বলেন, তিনি দেশ চালাতে ব্যর্থ, অথচ তাঁর দলের নথি বাজেয়াপ্ত করানোর চেষ্টা চলছে। মমতার দাবি, প্রতীক তাঁর দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং তাঁকে ফোন করেই তিনি পুরো বিষয়টি জানতে পারেন। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, তল্লাশির সময় হার্ড ডিস্ক ও মোবাইল ফোনও নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাউডন স্ট্রিটে যাওয়াকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অনৈতিক। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, তদন্ত বা ইডি-র তল্লাশি সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না।