জীবনকৃষ্ণর পেশা নিয়েও আদালতের কার্যত বিস্ফোরক দাবি করেছে ইডি। তাঁদের বক্তব্য, বিধায়ক হওয়ার আগে চাকরি-বিক্রির এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন তিনি!

টগরি এবং জীবনকৃষ্ণ সাহা
শেষ আপডেট: 26 August 2025 17:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক (TMC MLA) জীবনকৃষ্ণ সাহা (Jiban Krishna Saha) ফের গ্রেফতার হয়েছেন। এবার তাঁকে গ্রেফতার করেছে ইডি (ED)। আর এই গ্রেফতারির পরই একাধিক বিস্ফোরক তথ্য বেরিয়ে আসছে। সূত্রের খবর, ইডি জানতে পেরেছে গত চার মাসে জীবনকৃষ্ণর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা ঢুকেছে! এই টাকার উৎস কী, জানতে চাওয়ায় উত্তরও দিয়েছেন বিধায়কের স্ত্রী (MLA Wife)। আর তাতেই বলা যায় আরও চাপ বেড়েছে জীবনের।
প্রাথমিক তদন্তের পর ইডির হাতে তথ্য এসেছে যে, বিগত কয়েক মাসে জীবন এবং তাঁর স্ত্রী টগরির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্তত ৪৬ লক্ষ টাকা ঢুকেছে। আর তার মধ্যে টগরির অ্যাকাউন্টেই ঢুকেছে ২৬ লক্ষ, তাও মাত্র চার মাসে! কোথা থেকে এল এই টাকা, ইডির প্রশ্নের উত্তরে জীবনের স্ত্রী নাকি জানিয়েছেন, তাঁর স্বামীই এই টাকা রেখেছেন! তাই স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ আরও কয়েকগুণ বেড়েছে তদন্তকারী সংস্থার।
জীবন এবং তাঁর স্ত্রী টগরি দুজনেই সরকারি কর্মচারী (Govt Employee)। চাকরি ছাড়া অন্য কোনও কাজ করেন না তাঁরা, কোনও ব্যবসাও নেই তাঁদের। এতএব, বেতন মারফৎ এত টাকা তাঁদের আয় করা সম্ভব নয়। তাই এত লক্ষ টাকা কীভাবে তাঁদের অ্যাকাউন্টে এল, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজাই এখন ইডির মূল কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার আদালত জীবনকৃষ্ণকে নিয়ে বেশ কিছু তথ্যও দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
আদালতে ইডি জানিয়েছে, ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে জীবনকৃষ্ণর স্ত্রী টগরির অ্যাকাউন্টে প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা জমা পড়েছিল। তারও আগে ২০১৯ সালে জনৈক সঞ্জিত মণ্ডল নামের এক ব্যক্তি দু’দফায় জীবনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সাড়ে ১১ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছিলেন। এছাড়াও একাধিক ব্যক্তি কোনও ১২ লক্ষ, কখনও ১ লক্ষ টাকা করে জীবনকে দিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে সাত-আট জনের খোঁজ মিলেছে। যদিও এদের পরিচয় এখনও স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
জীবনকৃষ্ণর পেশা নিয়েও আদালতের কার্যত বিস্ফোরক দাবি করেছে ইডি। তাঁদের বক্তব্য, বিধায়ক হওয়ার আগে চাকরি-বিক্রির এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন তিনি! পরে বড়ঞার বিধায়ক হওয়ার পর ১০-১২ জনকে নিয়ে তৈরি করেন চাকরি-বিক্রির নেটওয়ার্ক। অনুমান, এই কারণেই ধাপে ধাপে বিধায়কের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের টাকা ঢুকেছে।
সোমবার সকালেই জীবনকৃষ্ণের কান্দির বাড়িতে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ২০২৩ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন! সে বারও সিবিআইয়ের তল্লাশির সময় বাড়ি থেকে দু’টি মোবাইল ফোন পুকুরে ছুড়ে দিয়েছিলেন তিনি। পরে জল শুকিয়ে উদ্ধার করা হয় ফোন, পুনরুদ্ধার হয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও। এইবারও খবর পেয়েই তড়িঘড়ি ফের মোবাইল ছুড়ে দেন বিধায়ক। ফোন সোজা গিয়ে পড়ে বাড়ির সামনের নর্দমায়। বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ফোন উদ্ধার করে বাজেয়াপ্ত করে ইডি। তবে তাতে কোনও তথ্য মিলবে কিনা, সে নিয়ে ধন্দ রয়েছে।
এবারও নিজেকে ‘চক্রান্তের শিকার’ বলে দাবি করেছেন মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক। কিন্তু কার চক্রান্ত? কীভাবে ফাঁসানো হল তাঁকে? কেনই বা ফোন পুকুরে ছুড়েছিলেন, তাতে কী তথ্য রয়েছে? — এসব প্রশ্নের উত্তর অধরাই রয়েছে।