তদন্তে উঠে এসেছে, একাধিক নির্দিষ্ট সংস্থাকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি বালি খনন ও বিক্রির কাজ চলছিল। ইডির দাবি, অরুণ সরফ নিজের নামে কোনও সরাসরি হিসাব না রেখে অন্য পথে আর্থিক লেনদেন চালাতেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 3 January 2026 16:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বালি পাচার (Sand Smuggling) মামলায় তদন্তের পরিধি আরও স্পষ্ট হল। রাজ্যের (West Bengal) বিভিন্ন জেলায় টানা তল্লাশি অভিযানের পর শনিবার কলকাতার বিচার ভবনে চার্জশিট (Chargesheet) জমা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই মামলায় আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা।
ইডি (ED) সূত্রে জানা গেছে, চার্জশিটে মোট ১৮ জন অভিযুক্তের নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ব্যবসায়ী অরুণ সরফ। চার্জশিটে অরুণের পাশাপাশি তাঁর তিন কর্মচারীর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু ব্যক্তি নন, এই মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে ১৪টি সংস্থার (Company) নামও - যার মধ্যে অরুণ সরফের সংস্থাও রয়েছে। আগামী সোমবার বিচার ভবনে মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত।
তদন্তে উঠে এসেছে, একাধিক নির্দিষ্ট সংস্থাকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি বালি খনন ও বিক্রির কাজ চলছিল। ইডির দাবি, অরুণ সরফ নিজের নামে কোনও সরাসরি হিসাব না রেখে অন্য পথে আর্থিক লেনদেন চালাতেন। তদন্তে দেখা যায়, ১০৩ কোটি টাকার বালি বিক্রির কথা স্বীকার করলেও তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা। এই অস্বাভাবিক ফারাক থেকেই তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
অরুণ ইডি হেফাজতে থাকাকালীন রাজ্যের ১৩টি জায়গায় বালির মজুত যাচাই করা হয়। সেখানে বাস্তব স্টক ও নথিভুক্ত হিসাবের মধ্যে একাধিক গরমিল ধরা পড়ে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। পরবর্তীতে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পুনরায় যাচাই করেও সেই অসঙ্গতির প্রমাণ মিলেছে।
ইডির অভিযোগ, বেআইনি বালি খননের পাশাপাশি ভুয়ো ই-চালান ব্যবহার করে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ এবং প্রশাসনিক ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়েই এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। গ্রেফতারির পর থেকে এখনও জেল হেফাজতেই রয়েছেন অরুণ সরফ।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস ধরে বালি পাচার মামলার সূত্র ধরে রাজ্যের একাধিক জেলায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়েছে ইডি। সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই গত বছরের নভেম্বর মাসে হাওড়ার বালি এলাকা থেকে অরুণ সরফকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারির আগে প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন তদন্তকারীরা। ইডির দাবি, অরুণের বিরুদ্ধে একাই প্রায় ৭৮ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।