সোমবার ভোর থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে তদন্তকারী আধিকারিকরা বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেন। আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার একটি বহুতল আবাসনের এক ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটেও অভিযান চালানো হয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 16 March 2026 11:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Elections 2026) দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গেছে। আগামী এপ্রিল মাসে দু-দফায় নির্বাচন। এর মধ্যেই ফের রাজ্যে সক্রিয় ইডি (ED Raid)। অবৈধ কলসেন্টার ও আর্থিক প্রতারণা সংক্রান্ত একটি মামলায় সোমবার সকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান (ED Raid In West Bengal) চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। শিলিগুড়ি, হাওড়া, বিধাননগর এবং দুর্গাপুরসহ মোট দশটি স্থানে একযোগে অভিযান শুরু হয় বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে।
সোমবার ভোর থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে তদন্তকারী আধিকারিকরা বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেন। আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার একটি বহুতল আবাসনের এক ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটেও অভিযান চালানো হয়। একই সঙ্গে বিধাননগরের সল্টলেক এলাকার দু’টি আলাদা ঠিকানাতেও তল্লাশি শুরু করেন আধিকারিকরা।
সূত্রের খবর, অবৈধ কল সেন্টারের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগকে ঘিরেই এই তদন্ত শুরু হয়েছে। সেই মামলার সূত্র ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাট ও দফতরের বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদও করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। বিভিন্ন নথি, নথিপত্র এবং বৈদ্যুতিন তথ্য সংগ্রহ করে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা মূলত আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগের নথি এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করছেন।
নরেন্দ্রপুর এলাকার বহুতল আবাসনে থাকা এক ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে সকাল থেকেই দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানো হয়। একই সঙ্গে সল্টলেকের দু’টি জায়গাতেও তদন্তকারীরা ঘনিষ্ঠভাবে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। অভিযানের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
ইতিমধ্যে কয়লা পাচার মামলা নিয়ে রাজ্যে কার্যত অতিসক্রিয় ইডি। গত মাসেই ঝাড়খণ্ড–আসানসোলে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে প্রথমবার কোনও ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে তাঁরা। এই মামলার সূত্র ধরেই সম্প্রতি রাজ্যের একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল ইডি। আসানসোলের রানিগঞ্জ, জামুরিয়া-সহ বিভিন্ন এলাকায় একযোগে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ দল। একাধিক কয়লা ব্যবসায়ীর বাড়ি ও গুদামে তল্লাশি চালানো হয়। জামুরিয়ার এক ব্যবসায়ীর বাড়ির গুদামঘর থেকে উদ্ধার হয় প্রায় দেড় কোটি টাকা নগদ, যা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করে।
এর আগেও এই কয়লা পাচার মামলায় ইডির ভূমিকা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পুরনো একটি মামলার সূত্রে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালানো নিয়ে বিষয়টি গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। তার পর কলকাতায় এসে ইডির ডিরেক্টর রাহুল নবীন রাজ্যের আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও করেন।