অভিযোগ ছিল, কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক জয়ন্ত কান্তের স্ত্রী বিহারের বিজেপি নেত্রী। তাহলে তাঁর স্বামী কীভাবে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করবেন? প্রশ্ন ছিল তাঁদের। এরপরই পর্যবেক্ষক পাল্টে দিল নির্বাচন কমিশন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 28 March 2026 13:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে প্রশাসনিক স্তরে আবার বড় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন (ECI)। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগের পর মালদহের চারটি কেন্দ্রে পুলিশ পর্যবেক্ষক (Police Observer) বদল করা হয়েছে। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন বিহার ক্যাডারের আইপিএস অফিসার হৃদয় কান্ত।
এর আগে মানিকচক, মোথাবাড়ি, সুজাপুর এবং বৈষ্ণবনগর কেন্দ্রে দায়িত্বে ছিলেন জয়ন্ত কান্ত। তাঁকে ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক জয়ন্ত কান্তের স্ত্রী বিহারের বিজেপি নেত্রী। তাহলে তাঁর স্বামী কীভাবে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করবেন? প্রশ্ন ছিল তাঁদের। এরপরই পর্যবেক্ষক পাল্টে দিল নির্বাচন কমিশন।
শুধু মালদহ নয়, আরও একাধিক কেন্দ্রে পর্যবেক্ষক বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জঙ্গিপুর, রঘুনাথগঞ্জ, সাগরদিঘি - এই কেন্দ্রগুলিতেও নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি জামুড়িয়া, আসানসোল দক্ষিণ, আসানসোল উত্তর, কুলটি, বারাবনি - এই শিল্পাঞ্চলগুলিতেও বদল আনা হয়েছে।
এছাড়াও খড়্গপুর সদর, পিংলা, খড়্গপুর ও ডেবরা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পর্যবেক্ষকদেরও সরানো হয়েছে। নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাগদা, বনগাঁ উত্তর, হাবড়া, অশোকনগর এবং আমডাঙা এলাকার পর্যবেক্ষকদের।
এই রদবদলের আগে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সরব হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁদের অভিযোগ, কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা নিচ্ছে এবং বিজেপি-ঘনিষ্ঠ আধিকারিকদেরই বাংলায় পাঠানো হচ্ছে। এমনকি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করেও আক্রমণ শানানো হয়। তৃণমূলের দাবি, “নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার বদলে বিতর্কিত অতীতের আধিকারিকদের নিয়োগ করা হচ্ছে।”
তৃণমূলের নিশানায় যে চার পর্যবেক্ষক
ধীরজ কুমার (গাজোল, মালদহ): মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কমিশনার থাকাকালীন ৮ হাজার কোটি টাকার অ্যাম্বুল্যান্স টেন্ডার কেলেঙ্কারিতে এই আধিকারিকের নাম জড়িয়েছিল বলে দাবি তৃণমূলের। এ হেন ‘অভিযুক্ত’ ব্যক্তিকে গাজোলের পর্যবেক্ষক করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে ঘাসফুল শিবির।
অজয় কাটেসারিয়া (বনগাঁ দক্ষিণ): মধ্যপ্রদেশের সাতনার জেলাশাসক থাকাকালীন ৪০ একরের বেশি সরকারি জমি নিয়মবহির্ভূত ভাবে ব্যক্তিগত মালিকানায় হস্তান্তরের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। রেওয়া কমিশনারের রিপোর্টে তাঁকে ‘দোষী’ সাব্যস্ত করে চার্জশিটও দেওয়া হয়েছিল বলে তৃণমূলের দাবি।
গন্দম চন্দ্রুডু (বালিগঞ্জ): অন্ধ্রপ্রদেশের ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার ডিরেক্টর থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে পণ চেয়ে বধূ নির্যাতনের মামলা রুজু হয়েছিল। কলকাতার অভিজাত বালিগঞ্জ কেন্দ্রের দায়িত্ব তাঁর হাতে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ শাসকদল।
অরিন্দম ডাকুয়া (মধ্যমগ্রাম): ওড়িশার বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির ব্যক্তিগত সচিব (PS) হিসেবে কাজ করেছেন এই আধিকারিক। তৃণমূলের বক্তব্য, সরাসরি বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ লোককে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে কমিশন আসলে ‘পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টি’র নির্লজ্জ নজির গড়ল।
যদিও কমিশনের এই পদক্ষেপের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে - ভোটের আগে প্রশাসনিক ভারসাম্য রক্ষায় কি আরও বদল আসতে চলেছে?