নতুন করে নিয়োগপ্রাপ্ত এই চার আধিকারিক মূলত এসআইআরের আওতায় জমা পড়া নথিপত্র খতিয়ে দেখার কাজ করবেন বলে জানিয়েছে কমিশন।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও সিইও মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 10 January 2026 17:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর-এর (SIR West Bengal) কাজে নজরদারি আরও জোরদার করতে চার জন সিনিয়র আইএএস (IAS) আধিকারিককে বিশেষ রোল অবজার্ভার (Roll Observer) হিসেবে নিয়োগ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। প্রাথমিক ভাবে এই নিয়োগ শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) জন্যই করা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক থেকে ওই আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া তদারকির জন্য ইতিমধ্যেই বিশেষ রোল–অবজার্ভার হিসেবে সুব্রত গুপ্ত (Subrata Gupta) দায়িত্বে রয়েছেন। নতুন করে নিয়োগপ্রাপ্ত এই চার আধিকারিক মূলত এসআইআরের আওতায় জমা পড়া নথিপত্র খতিয়ে দেখার কাজ করবেন বলে জানিয়েছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, সামাজিক সুরক্ষা মন্ত্রক, ক্রীড়া মন্ত্রক, ত্রিপুরার সেন্সাস অপারেশন ডিরেক্টর দফতর এবং কেন্দ্রের জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ থেকে এই চার জন আধিকারিককে আনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে সব নথি যাচাইয়ের তালিকায় রয়েছে, তার বড় অংশই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে এই সব দফতরের সঙ্গে যুক্ত। ফলে নথি পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ দক্ষতা কাজে লাগাতেই এই নিয়োগ বলে মনে করা হচ্ছে।
বস্তুত, ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) চলছে। তবে যত কাণ্ড বাংলা নিয়েই। শুনানির ডাক পেয়ে 'মৃত্যু', হয়রানি, বিএলও-র ক্ষোভ, সব মিলিয়ে এসআইআর নিয়ে পশ্চিমবঙ্গই অন্য রাজ্যের তুলনায় আলোচনাrর কেন্দ্রবিন্দু।
এই পরিস্থিতিতে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ভূমিকা ক্রমশ রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে উঠছে, এই অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক একাধিক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপকে ‘গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। ছাপা চিঠির শেষে হাতে লিখে মুখ্যমন্ত্রী এও লিখেছেন, "জানি আপনি কোনও উত্তর দেবেন না, কিন্তু সমস্ত তথ্য আপনার কাছে তুলে ধরা আমার কর্তব্য।"
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, রাজ্যের বাইরে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের বাস্তব সমস্যার কথা বারবার জানানো সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন দেরিতে এবং আংশিক ছাড় দিয়েছে। পরিবারের অনুমোদিত সদস্যের মাধ্যমে শুনানিতে হাজির হওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও সেই সুবিধা সব পরিযায়ী শ্রমিক পাচ্ছেন না। এতে মাটির বাস্তবতা সম্পর্কে কমিশনের সংবেদনশীলতার অভাবই প্রতিফলিত হচ্ছে।