কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিষয়েও কমিশনের কাছে অসন্তোষ জানানো হয়েছে। অভিযোগ, রাজ্য পুলিশ যেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করছে, তাতে সঠিকভাবে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

শেষ আপডেট: 9 March 2026 16:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার রাজ্যের স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক করে কমিশনের ফুল বেঞ্চ (ECI Full Bench)। সকাল থেকে শুরু হয়েছে এই বৈঠক। সিপিএম (CPM), বিজেপি (BJP) ইতিমধ্যেই জ্ঞানেশ কুমার-সহ কমিশনের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা সেরে ফেলেছেন। কী কী দাবি এবং অভিযোগ জানালেন তারা?
কমিশনের সঙ্গে বিজেপির বৈঠক
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে (2026 West Bengal Assembly Election) হিংসা ও ভয়মুক্ত করতে বিজেপির (BJP) তরফে একাধিক দাবি জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে প্রায় আধ ঘণ্টার বৈঠকে প্রতিনিধিরা বিস্তারিতভাবে নিজেদের মতামত ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়, আগামী নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে ১৮ দফা দাবি কমিশনের সামনে রাখা হয়েছে। ভোট যেন সম্পূর্ণ হিংসামুক্ত এবং সাধারণ ভোটাররা যাতে কোনও ভয় বা চাপ ছাড়াই ভোট দিতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিষয়েও কমিশনের কাছে অসন্তোষ জানানো হয়েছে। অভিযোগ, রাজ্য পুলিশ যেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করছে, তাতে সঠিকভাবে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে বিজেপির প্রতিনিধি দল আবেদন জানিয়েছে, ভোট যেন খুব বেশি দফায় না করা হয়। ৭-৮ দফার পরিবর্তে সর্বাধিক ১ বা ২ দফায় নির্বাচন করা হোক। এছাড়াও, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যে বুথগুলিকে সংবেদনশীল (Sensitive) বলে মনে করা হয়, সেগুলি আগে থেকেই চিহ্নিত করার কথাও বলা হয়েছে।
বৈঠকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের (West Bengal Police Welfare Organisation) মাধ্যমে ভোটে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হয়। তাই নির্বাচন চলাকালীন এই সংগঠনের সমস্ত অফিস বন্ধ রাখার দাবি জানানো হয়েছে। তবে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিচারাধীন নাম (under adjudication) সংক্রান্ত কোনও বিষয় নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা করা হয়নি বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
কমিশনের সঙ্গে সিপিএমের বৈঠক
সিপিএমের প্রতিনিধি দলে ছিলেন মহম্মদ সেলিম (Md Salim), শমীক লাহিড়ী। এসআইআর ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন সেলিম। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'একটা ভোটার লিস্ট করতে গিয়ে কেন মানুষকে শত্রু বানাল? কেন মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল? নির্বাচন কমিশন কেন নির্যাতন কমিশন হয়ে গেল?'
৬০ লক্ষ ভোটারকে বাদ দিয়ে বাংলায় ভোটার লিস্ট হতে পারে না, কমিশনের কাছে এই দাবি জানিয়েছে বামেরা। অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশেই এই চক্রান্ত হয়েছে। এমনকি একাধিক গণ্ডগোলের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলও, এইআরও, ইআরওদেরও গাফিলতি আছে, কমিশন সেই কথা স্বীকার করেছে বলে জানান সেলিম।
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কমিশন কী ব্যবস্থা নিচ্ছে তাও বিস্তারিত জানতে চায় সিপিএমের প্রতিনিধি দল। একইসঙ্গে প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মতোই তারাও হিংসামুক্ত নির্বাচনের লক্ষ্যে এক বা দুই দফায় ভোটের পক্ষে মত জানিয়েছেন।
অন্যদিকে কংগ্রেসের (Congress) বক্তব্য, এক হোক দুই হোক যাই হোক, সাধারণ মানুষ ও প্রার্থীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা আগে নিশ্চিত করতে হবে।