বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় পরিচয় ও বাসস্থানের প্রমাণ হিসেবে চা-বাগান এবং সিঙ্কোনা বাগানের কর্মসংস্থানের নথিকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
.jpeg.webp)
শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 11 January 2026 16:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গের (Uttar Banga) চা-বাগান ও সিঙ্কোনা বাগান এলাকার বাসিন্দাদের ভোটার তালিকাভুক্তি (Voter List) নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় পরিচয় ও বাসস্থানের প্রমাণ হিসেবে চা-বাগান এবং সিঙ্কোনা বাগানের কর্মসংস্থানের নথিকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বিজেপি (BJP) সূত্রে এই সিদ্ধান্তকে ‘গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য’ বলে দাবি করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায়। দীর্ঘদিন ধরে নথিপত্রের অভাবে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে সমস্যায় পড়ছিলেন চা-বাগানের শ্রমিক, আদিবাসী সমাজের মানুষ, বনাঞ্চলের বাসিন্দারা। তাঁদের অনেকেরই অভিযোগ ছিল, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের এই অনুমোদনের ফলে সেই জট অনেকটাই কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে।
A BIG WIN FOR BJP BENGAL!
The long-ignored voices of North Bengal have finally been heard and justice has prevailed.
The Election Commission has APPROVED our request to recognise employment records of Tea Gardens and Cinchona Gardens as valid proof of identity and residence for… pic.twitter.com/7zoNd0xkH7— Amit Malviya (@amitmalviya) January 11, 2026
বিজেপির দাবি, রাজ্য সরকারের উদাসীনতার কারণে এত দিন এই মানুষগুলির গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হচ্ছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার মানুষের ভোটাধিকার ফিরবে বলেই তাদের মত। বিজেপি নেতৃত্বের তরফে উত্তরবঙ্গের যোগ্য ভোটারদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, তাঁরা যেন নিজেদের বাগানের কর্মসংস্থানের নথি ব্যবহার করে দ্রুত ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করেন।
দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, বরং দীর্ঘদিন অবহেলিত মানুষের মর্যাদা ও অধিকার ফেরানোর দিকেও একটি বড় পদক্ষেপ। উত্তরবঙ্গের প্রতিটি ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে বিজেপির তরফে বলা হয়েছে, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সকলের অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় শক্তি।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে বসবাসকারী জনজাতি, বনবাসী এবং বাগান শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে নথিগত সমস্যার কারণে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। রাজ্য সরকারের উদাসীনতার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্ত একটি বড় জয়। এক্স পোস্টে তিনি উত্তরবঙ্গের যোগ্য ভোটারদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, "চা বাগান বা সিঙ্কোনা বাগানের কর্মসংস্থানের নথি ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করতে এগিয়ে আসুন। আপনার ভোটই আপনার প্রকৃত শক্তি।"
উল্লেখযোগ্য ভাবে, চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে একটি চিঠি পাঠান বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই চিঠিতে পশ্চিমবঙ্গে চলমান এসআইআর প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে চা বাগান ও সিঙ্কোনা বাগানের শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের নথিকে পরিচয় ও বাসস্থানের সরকারি প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করার আর্জি জানান তিনি।
চিঠিতে শুভেন্দু উল্লেখ করেন, প্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার কার্যকর করতে হলে একটি নির্ভুল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভোটার তালিকা তৈরি করা অপরিহার্য। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘ দিন ধরেই নানা প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতার কারণে চা বাগান ও সিঙ্কোনা বাগান এলাকার বহু মানুষ ভোটাধিকার থেকে কার্যত বঞ্চিত রয়েছেন। এই পরিস্থিতি বদলাতে এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাদের কর্মসংস্থানের রেকর্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি তুলে ধরেন।