কথা ছিল শুক্রবারই প্রকাশিত হবে ভোটার তালিকার (Voter List) প্রথম ‘সাপ্লিমেন্টারি’ বা অতিরিক্ত লিস্ট। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই তালিকা প্রকাশ করেনি কমিশন (EC)।

সিইও মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 20 March 2026 21:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথা ছিল শুক্রবারই প্রকাশিত হবে ভোটার তালিকার (Voter List) প্রথম ‘সাপ্লিমেন্টারি’ বা অতিরিক্ত লিস্ট। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই তালিকা প্রকাশ করেনি কমিশন (EC)। সূত্রের খবর, সোমবারের আগে ওই তালিকা জনসমক্ষে আসার সম্ভাবনা কম। আর এই দেরি ঘিরেই এদিন সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর আশঙ্কা, ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নষ্ট করে ভোটারদের বিপাকে ফেলা হচ্ছে।
কমিশনের খতিয়ান: কতদূর এগোল কাজ?
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে অসম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম ‘বিবেচনাধীন’ ছিল। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশে বর্তমানে সেই জট কাটাতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে। জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ২৭ লক্ষ ২৩ হাজার নামের নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে।
বস্তুত, শুক্রবার দলের ইস্তাহার প্রকাশের কর্মসূচি থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ করেন, ‘বিবেচনাধীন’ (Under Adjudication) ভোটারদের তালিকা (Voter List) থেকে বেছে বেছে একটি বিশেষ সম্প্রদায় এবং মতুয়া-রাজবংশীদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর কাছে খবর আছে যে প্রায় ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে এ পর্যন্ত ২২ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ নাম বাদ পড়তে চলেছে বলে তাঁর আশঙ্কা। মমতার কথায়, “মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও দুই দিনাজপুরে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ একটি সম্প্রদায়ের পাশাপাশি হিন্দু, মতুয়া ও রাজবংশী মানুষও বাদ যাচ্ছেন।” কমিশনের তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৫ লক্ষের বেশি নামের নিষ্পত্তি হয়েছে, তবে তালিকা প্রকাশ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। মমতার প্রশ্ন, “ভোটের আগে এই কাজ আদৌ শেষ হবে তো?”
যদিও বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দু’লক্ষ করে আবেদন খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। এই গতি বজায় থাকলে ভোটের আগেই পাহাড়প্রমাণ কাজ শেষ করা যাবে বলে আশাবাদী কমিশন।
এদিন সন্ধ্যায় মানিকতলায় তাপস রায়ের মিছিলের সময় যে ঝামেলা হয়েছে সেই বিষয়ে ডিইও নর্থ-এর কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছে সিইও দফতর।
বিচারকদের নিরাপত্তা ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নির্দেশে প্রায় ৭০০ জন কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিক এই যাচাই প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন। তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কমিশন। সাফ জানানো হয়েছে, তালিকা প্রকাশের পর প্রয়োজন পড়লে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়া হবে। অন্যদিকে, আদালতের পর্যবেক্ষণ— এই অতিরিক্ত তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়বে, তাঁরা চাইলে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। তবে তাঁদের ভোটাধিকারের ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।
ভোটের নির্ঘণ্ট ও চূড়ান্ত তালিকা
রাজ্যে দুই দফায় ভোট হবে (West Bengal Assembly Election 2026) আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। ফল প্রকাশ ৪ মে। কমিশন স্পষ্ট করেছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যত জনের নামের নিষ্পত্তি হবে, তাঁদের প্রত্যেককেই অতিরিক্ত ভোটার তালিকায় ঠাঁই দেওয়া হবে। দফায় দফায় এমন একাধিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়ের মধ্যে যদি সমস্ত নামের নিষ্পত্তি না হয়, তবে পূর্ণাঙ্গ তালিকা ছাড়া ভোট করানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। সেক্ষেত্রে ফের দেশের শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে।