ভোটার তালিকা, বিশেষ করে এসআইআরের সাপ্লিমেন্টারি তালিকা ঘিরে প্রশ্ন তুলেছে একাধিক রাজনৈতিক দল। একই সঙ্গে তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেস সহ প্রায় সব দলই শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছে।

মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 16 March 2026 18:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনের সূচি ঘোষণার (West Bengal Assembly Election 2026) পরদিনই নির্বাচন কমিশনের দফতরে ফের বসে সর্বদলীয় বৈঠক (CEO All Party Meeting)। সোমবার সিইও অফিসে হওয়া সেই বৈঠকে ভোটার তালিকা, বিশেষ করে এসআইআরের সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (West Bengal SIR Supplimentary List) ঘিরে প্রশ্ন তুলেছে একাধিক রাজনৈতিক দল। একই সঙ্গে তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেস সহ প্রায় সব দলই শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছে।
বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করেন শশী পাঁজা। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছিল।
শশী পাঁজার বক্তব্য, কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে প্রায় ১৯ লক্ষ নামের বিষয়ে নাকি নিষ্পত্তি হয়েছে। সেই তালিকা এই সপ্তাহের শেষের দিকে প্রকাশিত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন নিয়েও কমিশনের কাছে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কংগ্রেসের তরফ থেকেও একই ইস্যুতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম ঝুলে থাকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। তবে এই প্রসঙ্গে কমিশনের প্রতিনিধিরা কিছুটা উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া দেখান বলেও অভিযোগ করেন কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা।
কংগ্রেসের দাবি, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। নির্বাচন পরিচালনার খসড়া, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক ব্যয়ের বিষয়েও কমিশনের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের দাবি জানানো হয়েছে।
সিপিএমের প্রতিনিধি পলাশ দাসও বৈঠকে একই উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষকে বিচারাধীন অবস্থায় রেখে নির্বাচন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ওই বিপুল সংখ্যক ভোটার আদৌ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
পলাশ দাসের অভিযোগ, এই বিষয়ে কথা বলার সময় কমিশনের এক প্রতিনিধি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এমনকি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধির মতো আচরণ করে ধমকের সুরেও কথা বলা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
সব মিলিয়ে ভোটের আগে ভোটার তালিকা ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলির একাংশের দাবি, বিষয়টি দ্রুত পরিষ্কার না হলে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে পারে।