সামিরুলের আগে অভিনেতা তথা ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দেবকেও এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছিল।
.jpeg.webp)
তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম
শেষ আপডেট: 15 January 2026 18:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR West Bengal) প্রক্রিয়ায় একের পর এক পরিচিত মুখকে শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে। সেই তালিকায় এ বার যুক্ত হলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা অধ্যাপক সামিরুল ইসলাম (Samirul Islam TMC)। বৃহস্পতিবার তাঁর কাছেও শুনানির নোটিস পাঠিয়েছে কমিশন।
কমিশনের (Election Commission) নোটিসে বলা হয়েছে, বর্তমান ভোটার তালিকার (Voter list) সঙ্গে আগের এসআইআরের সময় তৈরি তালিকার তুলনায় সাংসদের নিজের নাম বা তাঁর পিতার নামের মধ্যে অমিল রয়েছে। পাশাপাশি গণনা ফর্মে যে সংযোগের উল্লেখ রয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে আগের এসআইআরের ভোটার তালিকার সঙ্গে ভুল ভাবে নাম যুক্ত হয়েছে। সেই কারণেই প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে তাঁকে শুনানিতে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
সামিরুলের আগে অভিনেতা তথা ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দেবকেও এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি সেই শুনানিতে অংশও নিয়েছেন।
বুধবার যাদবপুরে কাটজুনগর স্বর্ণময়ী বিদ্যাপীঠে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন দেব। শুনানি প্রক্রিয়াশেষে হাসিমুখে বেরিয়ে প্রথমেই বলেন, ‘‘ভোট আসছে। রাজ্যের নাম যাতে খারাপ না হয়, এটা যেন সকলের কথাবার্তায় ফুটে ওঠে।’’ সাংসদ জানান, তিনি নিজেই জানেন না ভুল কার। কেন তাঁকে ডাকা হল। তিনি নিয়ম মেনে ফর্ম পূরণ করেছিলেন। তার পর শুনানিতে ডাকা হয়েছে শুনে আইন মেনে হাজিরা দিয়েছেন।"
২০২৩ সালে তৃণমূলে যোগ দিয়ে রাজ্যসভায় যান সামিরুল। পেশায় অধ্যাপক হলেও দীর্ঘদিন ধরে দেশের পরিযায়ী শ্রমিকদের অধিকার ও সমস্যা নিয়ে কাজ করে আসছেন তিনি। রাজনীতিতে নামার আগে সমাজকর্মী হিসেবেই তাঁর পরিচিতি ছিল বেশি।
ঘটনাচক্রে, সামিরুল ইসলামের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই বীরভূমের রামপুরহাটের দুনিগ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে ওই এলাকা হাসন বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। সাংসদ নিজেও হাসন কেন্দ্রের ভোটার হিসেবেই নথিভুক্ত। কর্মসূত্রে তাঁকে প্রায়শই কলকাতা ও দিল্লিতে থাকতে হলেও ভোটার তালিকায় তাঁর নাম এখনও হাসন কেন্দ্রেই রয়েছে।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৯ জানুয়ারি দুনিগ্রাম এ করিম উচ্চ বিদ্যালয়ে শুনানির জন্য হাজিরা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। এই প্রসঙ্গে সামিরুল বলেন, গোটা বাংলার মানুষকেই এসআইআরের নোটিস ধরাতে পারে। আমার পরিবার স্বাধীনতার আগের সময় থেকেই দুনিগ্রামের বাসিন্দা। অথচ এখন সেটাই আমাদের প্রমাণ করতে বলা হচ্ছে। নোটিস যখন পেয়েছি, তাই নির্ধারিত দিনে আমি অবশ্যই হাজিরা দেব।”