সাংসদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ইতিমধ্যেই ভাষা সংরক্ষণ ও প্রসারের জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাই এখন দেশের সংবিধানেও এদের মর্যাদা দেওয়া জরুরি।

সামিরুল ইসলাম
শেষ আপডেট: 11 December 2025 17:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যসভা কক্ষে রাজবংশী–কামতাপুরি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুললেন তৃণমূলের রাজ্যসভার (TMC Rajya Sabha) সাংসদ সামিরুল ইসলাম (Samirul Islam)। টুইটে তিনি জানান, উত্তরবঙ্গ, অসম, মেঘালয়, বিহার-সহ একাধিক অঞ্চলে বহু মানুষের মাতৃভাষা এই দু'টি ভাষা। ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা রাজবংশী ও কামতাপুরিকে স্বীকৃতি দেয়। এরপর গঠিত হয় সাংস্কৃতিক একাডেমি বোর্ড এবং উন্নয়ন পর্ষদ। স্কুল-কলেজ-বিদ্যাপীঠের পাঠ্যক্রমেও অন্তর্ভুক্ত হয় এই ভাষাগুলি।
সাংসদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ইতিমধ্যেই ভাষা সংরক্ষণ ও প্রসারের জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাই এখন দেশের সংবিধানেও এদের মর্যাদা দেওয়া জরুরি। রাজ্যসভায় তাঁর বক্তব্য, এই ভাষাগুলির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ব্যাপক ব্যবহারকে স্বীকৃতি দিতেই অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্তি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই দুই ভাষাভাষী সম্প্রদায়ের মানুষকে নিজেদের দিকে টানতে তৃণমূল সাংসদ সামিরুল এমন কৌশল নিয়েছেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাজ্যসভায় কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলে কেন্দ্রের কাছে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন তৃণমূলের সাংসদ সামিরুল ইসলাম। কিন্তু তাঁর সেই প্রশ্নের জবাবে গতকাল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই পরিষ্কার জানিয়ে দেন— এই দুই ভাষাকে আপাতত অষ্টম তফসিলে যুক্ত করার কোনও পরিকল্পনাই নেই কেন্দ্রের। আর সেই উত্তরকে ঘিরেই ফের তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল সাংসদ।
বুধবার সামিরুল বলেন, কেন্দ্রের এই জবাব শুধু হতাশাজনক নয়, বরং কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাভাষী মানুষের সম্মানবোধে আঘাত। তাঁর কথায়, পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক আগেই এই দুই ভাষাকে সরকারি স্বীকৃতির মর্যাদা দিয়েছেন। রাজ্যের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের আবেগকে সম্মান জানাতে তাঁদের মধ্যে বিশিষ্টজনদেরও সম্মানিত করেছে রাজ্য সরকার।
তার পরেও কেন্দ্রীয় সরকারের এমন অস্বীকৃতি, সামিরুলের অভিযোগ— “আবারও প্রমাণ হল, বিজেপি-শাসিত কেন্দ্র মূলনিবাসী বিরোধী।”
সংসদের ভিতরেই নয়, রাজপথেও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সামিরুলের দাবি, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ভাষার অধিকারের দাবি আরও জোরালো হবে আগামী দিনে।